ঢাকা রবিবার, ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :

বগুড়ার শেরপুরে ধানের দামের প্রভাব ঈদের বাজারে: জমে ওঠেনি কেনাকাটা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ চলতি মৌসুমের বোরো ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ। কিন্তু বাজারে ধানের দাম নেই। তাই এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এর প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদের বাজারে। ফলে ক্রেতা না আসায় শহরের বিপণিবিতাণগুলোতে তেমন ভিড় নেই। বেচাবিক্রিতেও সন্তুষ্ট নন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা জানান, গ্রামের মানুষ, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবিদের ওপর নির্ভর করে এবারের ঈদকে ঘিরে নতুন নতুন কালেকশন আর রকমারি মালপত্রে তাদের দোকান সাজিয়েছেন। কিন্তু কাঙ্খিত ক্রেতা সাধারণের উপস্থিতি না থাকায় তেমন বেচাবিক্রি হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ২০হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অতিক্রম করে ২০হাজার ৭৫০হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১লাখ ৩১হাজার ৭৮৫মেট্রিকটন। তবে আবহাওয়া মোটামোটি অনুকূলে থাকায় উৎপাদনের সেই লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিভাগ। কিন্তু কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় বারদুয়ারি হাটে খোঁজ নিয়ে যায়, বিআর-২৯জাতের ধান ৫০০-৫৩০টাকা, বিআর-২৮ জাতের ধান ৫৮০-৬০০টাকা, সুবললতা জাতের ধান ৫৫০-৫৮০ টাকা, কাজললতা জাতের ধান ৫৫০-৫৮০ টাকা ও মিনিকেট ধান ৬৫০-৬৮০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এবার বিশ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। প্রতিবিঘা জমিতে বোরো চাষে খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৫হাজার টাকা। আর ফলন হয়েছে ১৮-২০মণ হারে। আর বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১১হাজার টাকার ধান বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে প্রতিবিঘায় তার লোকসান গুণতে হয়েছে ৪থেকে ৫হাজার টাকা। ফজলুল হক নামের আরেক কৃষক জানান, একে তো ধান বিক্রি করতে গেলেই লোকসান গুণতে হচ্ছে। এদিকে ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৩ থেকে সাড়ে ৩হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এতো কষ্টের ফসল বাজারে নিয়ে লোকসানে বিক্রি করতে বুক ফেটে যায় বলে আক্ষেপ করেন তারা। ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় সরাসরি এর প্রভাব পড়েছে ঈদের বাজারে। ক্রেতা না থাকায় এবার ঈদের কেনাকাটা জমে ওঠেনি। শেরশাহ্ নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদের বাজারে ক্রেতাদের চাপ বলতে যা বোঝায়, তা এখনো সৃষ্টি হয়নি। অথচ ১৭ রোজা পার হলো। লিটন বস্ত্রবিতানের সত্ত্বাধিকারী মো. লিটন জানান, ক্রেতাদের আনাগোনা সারা বছরের অন্য সময়ের মতোই। দোকানগুলোতে তেমন ভিড় নেই। কোনো কোনো দোকান একেবারেই ক্রেতাশূন্য। তাই অলস সময় পার করছেন বিক্রয়কর্মীরা। তবে গতকাল থেকে একটু ক্রেতাদের একটু ভিড় দেখা যাচ্ছে বলে তিনি জানান। উপজেলার কুসুম্বী ইউয়িনের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমান ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন শহরে। তিনি জানান, পরিবারের জন্য ঈদের কাপড় কিনতে এসেছেন। তবে ধানের ফলন ভালো হলেও একেবারেই দাম নেই। এরপরও উৎসবকে কেন্দ্রে করে ছেলে-মেয়েদের নতুন কাপড় তো কিনে দিতেই হবে। কিন্তু ঈদ বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি, তাই কোন কূল-কিনারা পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। একই কথা বললেন খানপুর ইউনিযনের নলবাড়িয়া গ্রামের ইউনুছ আলী। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম। দুই বিঘা জমির ৪০মণ ধান ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের কিছু কিছু করে ঈদের কেনা-কাটা করতে মার্কেটে এসেছেন বলে জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ