ঢাকা রবিবার, ১৬ই জুন, ২০১৯ ইং, ২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :

শেরপুরে কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনা থেকে ধান সংগ্রহ করছেন খাদ্য বিভাগ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম দিতে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান সংগ্রহ শুরু করেছেন খাদ্য বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার (২৩মে) বিকেলে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে জেলার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের খামারকান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম ও আবু সাঈদের বসতবাড়ির আঙ্গিনা থেকে এক টন করে ধান ক্রয় করে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সরাসরি কৃষকের বাড়ির আঙ্গিনা থেকে ধান ক্রয় করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় উচরং গ্রামের এক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনেন তিনি। এসময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন-উর-রশিদ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট খামারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমিন, প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান লিটন, সচিব ইকবাল হোসেন দুলালসহ উপজেলা ও খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এদিকে সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে কৃষক বেশ খুশি। সুফলভোগী কৃষক আব্দুস সালাম জানান, এবার পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম একেবারেই কম। প্রতিমণ ধান ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সরকারের কাছে ১হাজার ৪০টাকায় ধান বিক্রি করতে পেরে বেশ খুশি। কারণ সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুণতে হতো তাকে। কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের কাছে মাত্র এক টন ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। অথচ তিনি এবার বিশ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে প্রায় ৬০০মণ ধান পেয়েছেন। এছাড়া গত বছরের ধান এখনও ঘরে রয়েছে। তাই বেশি ধান বিক্রি করতে পারলে ভালো হতো। তাদের মতো কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ২৬টাকা কেজি দরে ধান ক্রয় করলে উপকৃত হবেন তারা। এমনকি আর লোকসান দিতে হবে না। এজন্য ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে হবে। জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন-উর-রশিদ জানান, এরইমধ্যে এই উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ অভিযান। চলতি মৌসুমে ৬৩৫মেট্রিকটন ধান ক্রয় করা হবে। কৃষকরা কেজি প্রতি ২৬টাকা ও মণপ্রতি ১হাজার ৪০টাকা পাবে। এছাড়া ৩৬ টাকা কেজি দরে ১৪হাজার ৫৯২ মেট্রিকটন সিদ্ধ চাল, ৩৫টাকা কেজি দরে ২হাজার ২৫ মেট্রিকটন আতপ চাল ও ২৮টাকা কেজিতে ৬৩ মেট্রিকটন গম ক্রয় করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার সরাসারি তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছে। এতে কৃষক লাভবান হবে। তবে সরকার যাতে আরও বেশি পরিমাণ ধান ক্রয় করে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের জানানো হবে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। যাতে করে সব কৃষককে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা যায় এবং তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ