ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :

নলকূপে আটকা ২ বছরের শিশু, ৪ দিনেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি

প্রিন্সকে মনে আছে? ২০০৬ সালে ৫ বছর বয়স ছিল তার। সেই বছরই গ্রামের গভীর কূপে গর্তে পড়ে গিয়েছিল এই বাচ্চাটি। স্থান ছিল ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কুরুক্ষেত্র। বাচ্চাটিকে উদ্ধার করতেও সত্যি সত্যিই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধই হয়েছিল বটে। পুলিশ, সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল সবাই মিলে টানা ৪৮ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সুস্থ ভাবে গর্ত থেকে উদ্ধার করেছিলেন প্রিন্সকে।

২০০৬ সালের সেই দিন বিশ্ববাসীর চোখ ছিল টিভির পর্দায়। প্রিন্সের কী হলো তা জানতে উৎকণ্ঠায় ছিলেন অনেকেই।

আর এটা ২০১৯ সাল। ঠিক ১৩ বছর পর ফের উৎকণ্ঠায় দেশবাসী। টিভির পর্দা ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতেও উঁকিঝুঁকি মারছেন অনেকেই। কারণ ৯২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ১৫০ ফুট গভীর গর্তে (কূপ বা borewell) আটকে রয়েছে ২ বছরের ফতেবীর সিং।

পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের সাংরুর এলাকার ভগবানপুরা গ্রামে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খেলতে খেলতে আচমকাই ওই গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছে ফতেবীর।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা ফতেবীর। শিশুটির মায়ের দাবি, ওই গভীর নলকূপটি কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।

আটকা থাকার ৯২ ঘণ্টা পার হলেও শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার কাজ। বৃহস্পতিবার থেকে রাত-দিন চেষ্টা চালিয়ে রবিবার ফতেবীরের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল উদ্ধারকারী দল। কিন্তু যান্ত্রিক সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত ফতেবীরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এই ৯২ ঘণ্টায় খাবারের একটি দানাও ফতেবীরের কাছে পৌঁছে দিতে পারেননি তারা। শুধু তাই নয় দু’বছরের ওই শিশুটির কাছে খাবার পানি পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। গর্ত দিয়ে শুধু মাত্র কোনও রকমে অক্সিজেন পাইপ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছে।

এর আগে চলতি বছরে মার্চ মাসেই হরিয়ানার হিসরায় একটি ১৮ মাসের শিশু এই রকমই একটি গভীর নলকূপে পরে যায়। যাকে দু’দিন পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ২০০৬ সালে পাঁচ বছরের শিশু প্রিন্সকেও দু’দিন পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এবার পেরিয়ে গেছে ৯২ ঘণ্টা। এখন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ফতেবীরকে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ