ঢাকা রবিবার, ২৬শে মে, ২০১৯ ইং, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
ADD
শিরোনাম :
«» জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী পালিত «» বিএনপি নেতা নাসির ক্যান্সারে আক্রান্ত আর্থিক সহায়তা কামনা «» ঝিনাইদহে আম ও তরমুজে আগুন, নিয়ন্ত্রহীন বাজারে নেই কোনো দামাদামি «» গভীর রাতে গোয়াল ঘর থেকে ৫টি গরু চুরি «» ঝিনাইদহের ডাকবাংলা এলাকা থেকে ৭০ লিটার বাংলা মদসহ আটক ১ «» আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ২০ «» মহেশপুরে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন এএসআই আনিচ «» জোড়াবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে মহিলাসহ ৪জনকে পিটিয়ে জখম «» চুয়াডাঙ্গায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান «»   নফল ইবাদতগুলো আমল করার চেষ্টা করুন : (মাগফিরাতের দশম দিন)

আঙ্গোরপোতা হাসপাতালে ঝুলছে তালা ৮ বছর ধরে ডাক্তার নেই তুলছে বেতন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দেশের বহুল আলোচিত লালমনিরহাটের পাটগ্রামের সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা হাসপাতালটিতে এখন ঝুলছে তালা। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ শয্যার হাসপাতালটি দহগ্রাম আঙ্গরপোতা বাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপহার দিয়েছিলেন। জানাগেছে, ইন্দ্রা মুজিব চুক্তির মাধ্যমে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা তিনবিঘার মালিকানা পায় বাংলাদেশ। ভারতের অভ্যন্তরে একটুকরো এ বাংলাদেশ প্রবেশ করতে কড়িডোর ব্যবহার করতে হয়। ১৯৮৫ সালে দহগ্রাম একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাথে যুক্ত হয়। ১৯৯২ সালে কড়িডোড় গেট হয়ে এক ঘন্টার জন্য দীর্ঘ বন্দি জীবন থেকে মুক্তি পান দহগ্রাম ইউনিয়নের মানুষ। পরবর্তিতে ২০০১ সাল থেকে সারাদিনের জন্য কড়িডোর গেট খুলে রাখা হলেও সন্ধ্যার পর বন্ধ থাকত গেট। ২০১১ সালে ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম সফরে গিয়ে আজিবনের জন্য কড়িডোর গেট খুলে রাখার উদ্ধোধন করেন। সেই দিনই উপহার স্বরুপ দীর্ঘ বঞ্চিত দহগ্রাম বাসির স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১০ শয্যা বিশিষ্ট দহগ্রাম হাসপাতাল উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে সরকারী কাগজ কলমে সেবা দেয়া হলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার হাসপাতালে ঝুলে আছে তালা। উদ্ধোধনের মাত্র ৮ বছরের মাথায় ভেঙ্গেঁ পড়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা। সরকারীভাবে হাসপাতালে জনবল নিযোগ থাকলেও বাস্তবে ঝুলে থাকছে তালা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি আসবাবপত্র ও ভবনগুলো। চামচিকা বাদুড়সহ বিভিন্ন হিংসা প্রানি বসবাসস্থলে পরিণত হয়েছে এ হাসপাতালে। চিকিৎসক ও নার্সদের বসবাসের জন্য ৮টি কোয়ার্টার,রোগী পরিবহনের একটি এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার না করায় বুথ হয়ে পড়েছে। পুরো হাসপাতাল জুড়ে একমাত্র ওয়ার্ডবয় মিজানুর রহমান পরিবার পরিজন নিয়ে চিকিৎসকের একটি কোয়ার্টারে থাকেন। রোগীদের থাকার বেডগুলো নিজের কোয়ার্টার নিয়ে খাস হিসেবে ব্যবহার করছেন এ ওয়ার্ডবয়। স্থানীয়রা জানান, আন্তঃবিভাগ আর বহিঃবিভাগ চিকিৎসাসেবা দেয়ার কথা থাকলেও কোন কারণ বা ঘোষনা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে আন্তঃবিভাগ বন্ধ রয়েছে। বহিঃবিভাগ চিকিৎসা দিতে মাঝে মধ্যে কিছু প্যারাসিটামল ট্যাবলেট নিয়ে দুই ঘন্টার জন্য হাসপাতাল খুলে বসেন এক দুইজন ওয়ার্ডবয় ও নার্স। কখন চিকিঃসক আসেন তবে নিয়মিত নন। বিশেষ করে দুপুর ১২টার পর পুরো হাসপাতাল ঝুলে তালা। দুপুরের পর থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কারো কোন সমস্যা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে ছুটতে হয় পাটগ্রাম হাসপাতালে। লালমনিরহাট সিভিল সাজর্নের কার্য্যালয় সুত্রে জানাগেছে, সরকারী তথ্যমতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধোধনের দিন হতে দহগ্রাম হাসপাতালে আন্তঃ ও বহিঃভিাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ হাসপাতালে মেডিকেলে অফিসার ৪টি পদেই পুর্ন থাকলেও দুইজন চিকিৎসক ৮/৯ বছর ধরে অলিখিত ছুটিতে রয়েছেন। ডা. নাজমুল ইসলাম ও ডা. আহম্মেদ মোস্তফা নামে এ দুই চিকিৎসক খাতা কলমে এ হাসপাতালে নিয়োগ প্রাপ্ত হলেও বাস্তবে তাদের কোন সন্ধান নেই খোদ সিভিল সার্জনের কাছেও। বাকি দুইজন বেতন ভাতা তুললেও বাস্তবে কর্মস্থলে নেই। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দুইটি পদের একজন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে তিনিও অনুপস্থিত। নার্স চারটি পদের ৪ জনই এ হাসপাতালে সেবা দেখিয়ে বেতনভাতা উত্তোলন করলেও বাস্তবে তারা একজনও নেই হাসপাতালে। তবে ১০ শয্যার হিসেব অনুযায়ী সরকারী ্ঔষধপত্রসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়মিত সরবরাহ করা হয় এ হাসপাতালে। দহগ্রামের গৃহবধু এসমেতারা বেগম জানান, হাতের কাছে দহগ্রাম হাসপাতাল থাকলেও মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাসহ যে কোন সমস্যা হলে পাটগ্রাম হাসপাতালে যেতে হয়। এরপর মরতে বসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা জোটেনা দহগ্রামবাসির কপালে। প্রধানমন্ত্রীর দহগ্রামবাসির উপহারটি পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা করেন তিনি। আঙ্গোরপোতা গ্রামের কলেজছাত্রী মারুফা আক্তার জানান, দহগ্রামবাসি দীর্ঘদিন নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। মুল ভুখন্ডের সাথে যুক্ত হওয়ার পর সমতা ফিরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপহার স্বরুপ এ হাসপাতালটি দিয়েছেন দহগ্রামবাসিকে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা উদাসিনতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে হাসপাতালটি। নাগরিক ভধিকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ হাসপাতালে সেবার মান বৃদ্ধি করতে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী জানান, বিনা ছুটিতে দীর্ঘ ৮/৯ বছর অনুপস্থিত থাকা দহগ্রাম হাসপাতালের দুই চিকিৎসক এর বিষয়ে একাধিকবার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। বাকি জনবল হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন এবং সরকারী ভাবে তাদের জন্য ঔষধপত্র যাবতীয় সরঞ্জাম সরবরাহ দেয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে তালা ঝুলে থাকার বিষয়টি তার জানা নেই। খোজ নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ