ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» লামা উপজেলাধীন ফাইতং ইউনিয়নের  ইটভাটা মালিকদের অবৈধ পাহাড়  কাটা  «» চমেক হাসপাতালের আগুন এখন নিয়ন্ত্রনেঃ ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক টাকা «» পলাশবাড়ীতে অজ্ঞান পার্টির ৪ সদস্য গ্রেফতার,সিএনজি ও মোবাইল উদ্ধার «» গাইবান্ধা থেকে বন্যার পানি কমছে না «» পলাশবাড়ীর হাট-বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি «» ডোমারে বর্যার কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» চট্টগ্রামের পতেঙ্গা লালদিয়া চরের উচ্ছেদকৃত মানুষের আহাজারীতে কাঁপছে আকাশ-বাতাস «» চট্টগ্রামের অক্সিজেনে চসিক’র অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান «» র‌্যাব-৮ মাদারীপুর এর অভিযানে ১২ হাজার পাঁচশত পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ট্রাকসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক  «» চিরিরবন্দরে স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগ ঘাতক স্বামী আটক

বিশ্ব মঞ্চ থেকে বিদায় নিচ্ছেন এক ‘মহানায়ক’

সংবাদ ডেস্ক: বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে বিদায় নিচ্ছেন এক ক্রিকেট মহানায়ক। আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দ্বাদশ বিশ্বকাপের অভিযান শেষ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এ ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহানায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিদায়ের পর্বটা ভালো হলো না বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে সৈন্যদের দিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য পিছেই লেগে ছিলো বাংলাদেশের। বাজে ফিল্ডিং, বৃষ্টিতে পয়েন্ট নষ্ট, জয়ের কাছে গিয়েও হেরে যাওয়া- দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই নয়। তাই তো সংবাদ সম্মেলনে প্রায়ই মাশরাফি বলে থাকেন, ‘ভাগ্য অনেক বড় ফ্যাক্টর। আপনি যতই ভাল খেলুন না কেন, ভাগ্যের সহায় থাকতে হয়।’ দুর্ভাগ্য মাশরাফি ও বাংলাদেশের। সেমিফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কিন্তু কাল তো অন্তত ভাগ্যের সহায় মনে প্রাণে চাইতেন পারেন মাশরাফি। কারন কালই বাংলাদেশের অধিনায়কের বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচ।

বয়স- ৩৬ ছুই-ছুই। আগামী বিশ্বকাপ ২০২৩ সালে। সেখানে মাশরাফির খেলা দুরহ। সেটি নিজেও জানেন মাশরাফি। তাই তো দেশ ছাড়ার আগে ও ইংল্যান্ডে এসেও বলেছেন- এবারের আসরই আমার শেষ বিশ্বকাপ। মাশরাফির শেষ বিশ্বকাপটা রঙ্গিন হলো না। তবে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটা রঙ্গিন করতে মুখিয়ে থাকবেন মাশরাফি।

তবে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না মাশরাফি। দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৭ ইনিংসে বল করে মাত্র ১ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। ৪৯ ওভার বল করে ৬ দশমিক ৪২ ইকোনমি রেটে ৩১৫ রান দিয়েছেন তিনি। এমন পারফরমেন্সে মাশরাফি নিজেও হতাশ। তাই তো মন খারাপ নিয়েই বলেছিলেন, ‘আমার নিজেরও খুব খারাপ লাগছে।’ খারাপ লাগছে ভক্তদেরও। তাই তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশরাফিকে নিয়ে হাহা-কার তাদের। তবে যারা সমালোচনাতে পটু, তারা ঠিকই তাদের কাজটি করেছেন। মাশরাফিকে নিয়ে সমালোচনা করতে ভুল করেননি। তারা হয়তো ভুলে গেছেন, পায়ে সাতটি অস্ত্রোপচার নিয়ে এখনও ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন তিনি। অধিনায়কত্ব, বোলিং দিয়ে দলকে সেরা অবস্থানে আনতে বড় ভূমিকা ছিলো গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মাশরাফির।

২০১৪ সালের শেষেরদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট যখন টালমাটাল অবস্থা তখনই দলের দায়িত্ব নেন মাশরাফি। বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে জিম্বাবুুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক হন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে দলকে পাল্টে দেন মাশরাফি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের সিরিজের সবগুলোতেই জয় পায় বাংলাদেশ। এই সাফল্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপের এগারতম আসরে খেলতে নামে টাইগাররা।

সে আসরে বড় কোন লক্ষ্য ছিলো না বাংলাদেশের। কিন্তু মাশরাফি নেতৃত্বে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেরা সাফল্যই পায় বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারফাইনালে প্রথমবারের মত খেলে টাইগাররা। শেষ আট থেকে বিদায় নিলেও, থেমে যায়নি বাংলাদেশের পথ চলা। মাশরাফির নেতৃত্বে এরপর ভারত-পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলকে নাকানিচুবানি দেয় বাংলাদেশ। এইসব সাফল্যে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিং-এ সাত নম্বরে উঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সরাসরি খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সেখানে চমক দেখায় বাংলাদেশ। দলের খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরমেন্স, মাশরাফির বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্ব বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে তুলে। কিন্তু সেখানেই থেমে যায় বাংলাদেশের পথচলা।

বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সাফল্যে বাংলাদেশকে আরও বড় স্বপ্ন দেখান মাশরাফি। দ্বাদশ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার পণ করে ইংল্যান্ডে আসেন তিনি। কিন্তু ঐ যে ভাগ্য সহায় হয়নি দলের। ভাগ্য সহায় হয়নি মাশরাফির। নয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বিশ্বকাপের মঞ্চে মাত্র ১টি উইকেট পাবেন, বেমানানই বটে।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে নামেন মাশরাফি। ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে প্রধান ভূমিকা ছিলো মাশরাফির। ৯ দশমিক ৩ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তিনি।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা মাশরাফি, ২০১১ সালের বিশ্বকাপ মিস করেন। দেশের মাটিতে ঐ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষনার এক মাস আগে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময় আবারো হাটুঁর ইনজুরিতে পড়েন তিনি। তাই মাশরাফিকে ছাড়াই দেশের মাটিতেই বিশ্বকাপ খেলতে হয় বাংলাদেশকে।

তবে অধিনায়ক হিসেবে ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছেন মাশরাফি। ৫ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন দলের নেতা। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর আজ অবধি ৭২ ম্যাচে ৭৬ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। দ্বিতীয়বার অধিনায়ক হবার পর নেতা হিসেবেও বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন বড় বড় সাফল্য। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা অধিনায়ক বনে যান মাশরাফি। ৮৪ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪৭টি জয় পেয়েছেন তিনি। হার ৩৫টি।

শুক্রবার বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহানায়কের ম্যাচকে স্মরনীয় করে রাখার আভাস দিলেন টাইগার কোচ স্টিভ রোডসও, ‘মাশরাফির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের বাস্তবতা বুঝেই ক্রিকেটে মূল মনোযোগ দলের। আশা করি, ছেলেরা তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচে যথোপযুক্ত সম্মান দেবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভালো ফল করা।’
 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ