ঢাকা শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» নওগাঁ’র পাহাড়পুরে ল্যাট্রিনের সেফটি ট্যাংকিতে নেমে এক যুবকের মৃত্যু — আহত দুই «» নওগাঁর মান্দায় বানভাসী মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ «» এবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা  ছাত্রীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা «» হরিণাকুন্ডুর কাপাশাহাটিয়া ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে পথসভা «» খুলনার সাফল্যে গাঁথা নারী ইউএনও চিরিরবন্দরের কন্যা শাহনাজ বেগম «» রূপসায় সেনের বাজার স্ট্যান্ডে দু’গ্রæপের সংঘর্ষে আহত ৭ «» দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গী আবু জাফর রাজু ড়া «» লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ৫০০ মিটার হেছড়ে স্টেশন প্লাটফর্মে গিয়ে পৌছায় «» নেত্রকোনায় প্রকাশ্য দিবালোকে শিশুর গলা কাটা মস্তক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ঘটনায় শিশু হন্তারক গণপিটুনিতে নিহত «» বীরগঞ্জে ১৩জন অস্বচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের মাঝে ভাতা’র বই বিতরণ

ঝালকাঠিতে অবৈধ ভাবে ড্রাইভিং লাইন্সেস করার অভিযোগে ১১ জনের অর্থ দন্ড সহ ২ জনের জেল জরিমানা

রিপোর্ট : ইমাম বিমান : ঝালকাঠিতে অবৈধ ভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার অভিযোগে ১১জনের অর্থদন্ড সহ ২জনকে জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ঝালকাঠি শাখা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।বুধবার দুপুরে বিআরটিএ অফিসের কথিত দালাল আব্দুলাহ ও রিদয়ের সহযোহগীতায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে অবৈধভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা ১১ জনকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি  (বিআরটিএ) শাখা ঝালকাঠি কার্যালয় থেকে লাইসেন্স প্রদানের জন্য আঙুলের ছাপ নেওয়ার সময় আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ দুই দালাল সহ তাদেরকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি মোঃ বসির গাজী লাইসেন্সের জন্য আঙ্গুলের ছাপ দিতে আসা ১১ জন কে ১০০০ টাকা করে জরিমানা এবং রিদয় নামের এক জন কে সাত দিনের জেল ও দালাল আবদুল্লা কে বিশ হাজার টাকা জরিমানা সহ ছয় মাসের জেল প্রদান করেন।অনুসন্ধান করে জানাযায়, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ঝালকাঠি শাখার সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসন্সে প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে ঝালকাঠি জেলার বাইরের লোকজনকেও লাইসেন্স দিচ্ছেন তিনি। সরকার নির্ধারিত টাকার ব্যতিরেকে দ্বিগুন টাকা না দিলে লাইসেন্স দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন মোটরযান চালকরা। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিআরটিএ ঝালকাঠি জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মো. আইয়ুব আনছারী ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তাঁর কার্যালয়ে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য দালাল নিয়োগ করেন সাতকানিয়া উপজেলার বারকোনা গ্রামের আবদুল হককে। আর এই দালাল আবদুল হকের মাধ্যমে তিনি ঘুষ নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করতেন। ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। এসব ঘটনায় ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তিনি চাকরি ফিরে পেলে ভোলায় বদলী করা হয়। সেখানেও দালাল আবদুল হকের মাধ্যমে ঘুষ নেন তিনি। চার মাস পূর্বে তাকে ঝালকাঠিতে বদলী করা হলে ঝালকাঠিতে যোগদানের পর এখানেও গড়ে তোলেন দালাল সিন্ডিকেট। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি তিন হাজার ৬০ টাকা থাকলেও দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রতি ছয়-আট হাজার টাকা নেন তিনি। ঘুষ দিয়ে লাইসেন্সের আবেদন করলে সেই প্রার্থীকে মোটরযান চালানোর পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় না। শুধু টাকা দিয়ে আঙুলের ছাপ দিলেই পাওয়া যায় লাইনেন্স। ঘূষের টাকা না দিলে কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হয় না। তিনি ঝালকাঠিতে আসার পর বরিশালের কাউনিয়া এলাকার হৃদয় মৃধা নামে একজনকে দালাল হিসেবে নিয়োগ করেন। সে ফরম পূরণ করে দেয়, এজন্য তাকে ৫০ টাকা এবং প্রতিদিন ৫০০ টাকা খরচ দেন কর্মকর্তা। এমনকি বরিশাল থেকে ওই কর্মকর্তার গাড়িতে করে ঝালকাঠি আসা যাওয়া করেন দালাল হৃদয়। ঝালকাঠি বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারীর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ডেবরা গ্রামে। তিনি বর্তমানে বরিশাল বসবাস করছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোটরযান চালকরা জানান, ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ের দালাল হৃদয় মৃধার মাধ্যমে ঘুষ নেন সহকারী পরিচালক। জনপ্রতি ছয়-আট হাজার টাকা দিলে কোন পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স দেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে, তা গ্রহন করেন না কর্তকর্তা। তিনি নানা অযুহাত দেখিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন। নিয়মানুযায়ী যদি কারো আবেদন রাখেন, তাদের আবার মোটরযান চালানোর পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখান। পরে বাধ্য হয়ে তাঁর কার্যালয়ের দালালের কাছে যেতে হয় লাইসেন্স করতে আসা মানুষদের।শহরের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক মো. ইব্রাহিম বলেন, আমি বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে লাইসেন্স করার নিয়ম জানতে যাই। আমাকে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে, সারাজীবনেও লাইসেন্স পাওয়া যাবে না বলে জানান দালাল হৃদয়। সে আমার কাছ থেকে সাত হাজার ৬০ টাকা দাবি করেন। তিন হাজার টাকা স্যারকে (সহকারী পরিচালক) দিতে হবে বলে সে টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমার আঙুলের ছাপ নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করেন।এদিকে চট্টগ্রামে চাকরি করার সময় ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারীর গড়ে তোলা দালাল সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম আবদুল হক এখনো সক্রিয়। আবদুল হকের মাধ্যমে সে চট্টগ্রামের লোকজনেরও মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করেন। এজন্য তিনি জনপ্রতি আট হাজার করে টাকা নেন। বুধবার আবদুল হক চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ১১জন যুবককে লাইসেন্স করানোর জন্য ঝালকাঠি নিয়ে আসেন। এ বিষয় অভিযুক্ত যুবকরা জানান, তারা চট্টগ্রামের শাহ জব্বার এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী। এজেন্সি কর্তৃপক্ষ ওই যুবকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার তাগিদ দেন। এ লাইসেন্স করা থাকলে তাদের সৌদি নেওয়া যাবে বলেও জানান। ওই যুবকরা চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে গেলে, তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে লাইসেন্স দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে দালাল আবদুল হকের মাধ্যমে তারা ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স করাতে আসেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তিন তলায় ওই ১১জনকে সন্দেজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে এনডিসি মো. বশির গাজী তাদের ডেকে কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তারা আবদুল হকের মাধ্যমে লাইসেন্স করার জন্য এখানে এসেছেন বলে স্বীকার করেন। লাইসেন্সের জন্য তারা জনপ্রতি আট হাজার টাকা করে দিয়েছেন।ঝালকাঠির নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. বশির গাজী বলেন, আমি সকাল সাড়ে আটটায় অফিসে প্রবেশের সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখি। তাদের ডেকে ঠিকানা জানতে চাইলে তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। কি কারণে এখানে এসেছেন জানতে চাইলে তারা বলে বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স করার জন্য। তখন সন্দেহ হলে তাদের আমার কক্ষে নিয়ে যাই। তাদের কাছ থেকে বিস্তুারিত জেনে সিন্ডিকেটের সবাইকে ধরে ফেলি। এর মধ্যে দালাল আবদুল হককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, পরিশোধ না করলে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর এক দালাল হৃদয়কে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং লাইসেন্স করাতে আসা ১১ জনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে ঝালকাঠি বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারী বলেন, আমি এসব কিছুই জানি না। চট্টগ্রাম থেকে কারা এসেছে, আমি তাদের চিনি না। আমি কোন দালাল প্রশ্রয় দেই না। কারো কাছ থেকে টাকাও নেই না। দালাল কেউ থেকে থাকলে আমি তাদের চিহ্নত করে ব্যবস্থা নেবো।
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ