ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩শে মে, ২০১৯ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
ADD
শিরোনাম :
«» র‌্যাব-৮, সিপিসি-৩, মাদারীপুর এর অভিযানে বিকাশ প্রতারক চক্রের সক্রিয় ১ সদস্য ইয়াবাসহ আটক «» নিখোঁজের ৩মাস ২৩দিন পর ফিরে এলো নাটোরের যুবলীগ নেতা মিলন  «» গভীর রাতে প্রেমিক জুটির মুক্তি, লক্ষ টাকায় ম্যানেজ «» প্রধান শিক্ষিকার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত কাপড় খোলার চেষ্টা অত:পর শৈলকুপার ৭ শিক্ষক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এবার শ্লিলতাহানীর মামলা «» ঝিনাইদহ পৌরসভার উন্মুক্ত প্রাক বাজেট আলোচনা নারী উদ্যোক্তা সম্প্রসারণে বাজেট বৃদ্ধির প্রতিশ্রæতি «» ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ডে আল্ সানি পরিবহন থেকে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যাবসায়ী আটক «» ঝিনাইদহে কৃষক রতন হত্যার মুল আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালিত «» ঝিনাইদহে বিএসটিআই পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও হাইকোর্ট কর্তৃক প্রত্যাহারকৃত ৫২ টি পণ্যের সন্ধানে অভিযান «» মোটরসাইকেলে তীব্র গতি ঝিনাইদহের সাধুহাটী এলাকায় ঝরে পড়লো তাঁজা প্রাণ «» ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কদূর্ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত

বাগমারায় জন কল্যান সংস্থা এনজিও ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে “জন কল্যান সংস্থা” নামের ভুয়া এনজিও শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৫/২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নাপাত্তা হয়েছে । মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে এ বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কৌশলে উধাও হয়ে গেছে। ওই ঘটনার পর থেকে গ্রাহক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। ভূক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকালে মধ্যম বয়সী চার প্রতারক উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে যায় এবং এনজিও স্থাপনের জন্য লোকজনের সহযোগীতা চায়। এলাকার লোকজন এনজিও স্থাপনের জন্য প্রতারকদের না বুঝেই সহযোগীতা করলে তারা একই গ্রামের সাইদুর রহমান নামের এক কৃষকের বাড়ি ভাড়া নেয়। সাইদুর রহমানও সরল ভাবে তাদের ভাড়া দেয়। বাড়ি মৌখিক ভাড়া নিয়ে জন কল্যান সংস্থা নামের এনজিওটির সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়াও দুইটি কক্ষে স্থানীয় ডেকোরেটর থেকে চেয়ার টেবিল ভাড়া করে অফিস সাজানো হয়। টেবিলে বিভিন্ন রেজিষ্টার খাতা ও ফাইল দেখা যায়। তবে ওই সংস্থার নামীয় কোন ফরম বা ছাপানো কাগজপত্র সেখানে দেখা যায়নি। গতকাল রোববার বাড়ি ভাড়ার চুক্তি করার কথা ছিল বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন। সাইন বোর্ড ঝুলানোর বিষয়টি এলাকার লোকজনকে বিশ্বাস ধরিয়ে দেয়। প্রতারকের দলটি বাড়িতে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই এনজিও’র ঋন প্রদানের জন্য সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। বাড়ির মালিক বুঝে উঠার আগেই তারা হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সদস্যদের নিয়ে সমিতি গঠন করে। দুই দিনের ব্যবধানে তারা প্রায় শতাধিক সদস্য সংগ্রহ করেন যারা লোন গ্রহন করবেন। প্রত্যেক সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয় বাবদ অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেয়। গতকাল রোববার সকাল থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে ঋন বিতরনের কথা বলে মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও সমিতি গঠন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে গত শনিবার পর্যন্ত একই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রাহক সংগ্রহ ও ঋন প্রদানের জন্য শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। গত শনিবার বিকেলে প্রতারকের দলটি অফিসের আসবাবপত্র কিনার জন্য বাগমারা থেকে রাজশাহী শহরের যান। গ্রাহকদের টাকা ছাড়াও প্রতারকের দলটি বাড়ির মালিক সাইদুর রহমানের কাছ থেকেও আসবাবপতত্র কেনার জন্য প্রতারনার মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয় বলে সাইদুর রহমান জানান। সঞ্চয় নেয়া গ্রাহকদের গতকাল রোববার সকাল ১০ টার দিকে অফিসে আসতে বলা হয়। গ্রাহকেরা শীতলাই গ্রামের কথিত ওই জন কল্যান সংস্থার অফিসে ঋন নিতে আসলে তারা অফিসে কাউকে দেখতে না পেয়ে বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। গ্রাহকেরা বার বার সংস্থার ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের দেয়া কয়েকটি নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতারিত গ্রাহকেরা সংস্থার কার্যালয়ে ভিড় জমায়। গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা, মাড়িয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫/২০ লক্ষ টাকা প্রতারনা করে নাপাত্তা হয়েছে ভুয়া এনজিও জন কল্যান সংস্থা।গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের নাসিমা বেগমের কাছ থেকে ছয় হাজার দুইশত, ফেরদৌসি নামক সদস্যের কাছ থেকে পাঁচ হাজার দুইশত, শীতলাই গ্রামের রাসেলের কাছ থেকে একুশ হাজার পাঁচশত, আলোকনগর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মুন্টুর কাছ থেকে দশ হাজার দুইশত, সইলুন এর কাছ থেকে দশ হাজার পাঁচশত, ফরিদ নামের সদস্যের কাছ থেকে দশ হাজার পাঁচশত, আব্দুর রশিদ শাহ এর কাছ থেকে পাঁচহাজার, সমসপাড়া গ্রামের মানিক এর কাছ থেকে দশ হাজার দুইশত, কাঠালবাড়ির গিয়াস উদ্দিন ও মোমেনা বিবির কাছ থেকে দশ হাজার করে টাকা আদায় করেছে বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়াও কয়েকটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে রাখ লাখ টাকা নিয়ে কৌশলে তারা সটকে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, বাগমারা উপজেলায় জন কল্যান সংস্থা নামের কোন এনজিও বা সংস্থা নেই। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, উপজেলায় সমবায় অফিসের মাধ্যমে কোন ক্ষুদ্রঋনদান সমিতি থাকলেও আমাদের আওতায় জন কল্যাণ সংস্থা নামের ঋনদান কোন সংস্থা নেই। তিনি এই সংস্থাকে ভুয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেছেন। খোঁজ খবর নিয়ে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ