ঢাকা রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» রাজশাহীতে আমন রোপণ ব্যাহত,কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই «» রাজশাহীতে ছেলেধরা গুজবে মাইকিংয়ের নির্দেশনা,নারীসহ দুই যুবককে গণপিটুনি «» চুয়াডাঙ্গা পরিদর্শনে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান  «» গ্রামের মানুষের জন্যে নিজ টাকায় রাস্তা সংস্কার করলের যুবলীগ নেতা মিজান «» কোম্পানীগঞ্জে জেল থেকে বের হওয়ার ১৫ দিনের মাথায় প্রতিপক্ষের পিটুনিতে যুবক নিহত «» ফরিদপুরে জাল টাকাসহ আটক-২ «» দিনাজপুরে নবরূপী’র মাসিক সাহিত্য বাসরে কবি সাহিত্যিকদের মিলন মেলা «» দিনাজপুর দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত «» দিনাজপুরে শীঘ্রই পাইপ লাইনে গ্যাস আসছে «» দিনাজপুর শহরের প্রান কেন্দ্রে ৪০ কোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি দখল

মাসিক চাঁদা দিতে অস্বীকার করায়: মাদারীপুরে ওসির মারপিটে হোটেল মালিক আহত 

মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: মাদারীপুর সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম একটি আবাসিক হোটেল মালিককে থানায় নিজ কক্ষে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার হোটেল মালিক সিরাজ মুন্সী বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার দাবি, মাসিক পনের হাজার  টাকা চাঁদা দিতে না চাওয়ায় নির্যাতনের পাশাপাশি একটি সাজানো মামলা  দিয়ে তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।
সিরাজ মুন্সী মাদারীপুর শহরের অবস্থিত  আবাসিক সুমন হোটেলের মালিক। তিনি জানান, গত সোমবার রাতে মাদারীপুর পৌর শহরে অবস্থিত তার হোটেলে  স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে থাকতে আসেন শরিয়তপুর সদর উপজেলার এক শালি-দুলাভাই।
ঘটনাটি জেনে রাতেই ওই হোটেল তল্লাশি করতে যান মাদারীপুর পুলিশের ডিএসবি শাখার সদস্য শহিদুল ইসলাম। এসময় তিনি দু’জনের কথায় অমিল খুঁজে পান। এক পর্যায় তারা নিজেদের সর্ম্পকের কথা শিকার করেন। পরে পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলাম বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা বিকাশে আনতে বলেন। এ সময় হোটেলের মালিক সিরাজ মুন্সীকে টাকার বিষয়টি  কাউকে না জানাতে বলেন এবং তাকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা বিকাশের দোকান থেকে আনতে পাঠান ওই পুলিশ সদস্য। সিরাজ মুন্সী বিকাশের দোকান থেকে টাকা আনতে গেলে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
সিরাজ মুন্সী সাংবাদিকদের বলেন, পরের দিন মঙ্গলবার সকালে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম আমাকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। এ সময় তিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে না চাইলে ওসি আমাকে এলোপাথাড়ি চড়-থাপ্পর দিতে থাকেন। ওসির মারধরে আমার চোখে রক্ত জমাট বেধে যায়। এরপর ওসি হোটেলে ওঠা সেই ব্যক্তিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান। এরপর আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন দেন। পরে  চোখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ জুলাই ওসি মাদারীপুর সদর থানায় যোগ দেন। এরপর দুই বার আমাকে তার রুমে ডেকে মাসিক পনের হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপরে ক্ষেপে আছেন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উপযুক্ত বিচার চাই।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব আবির জানান, চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।
সিরাজ মুন্সী বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে হোটেলে ওঠা সেই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। থানার একজন অভিযোগ লিখেছে, আমি টিপ সই দিয়েছি।আমি মামলা করতে রাজি না। এর আগে হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয় আমাদের কাছে টাকা দাবি করেছে।’ নির্যাতনের বিষয়ে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, আমার সঙ্গে তার (সিরাজ মুন্সী) দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি  থানায় মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার বলেন, নির্যাতনের  বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ