ঢাকা বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
ADD
শিরোনাম :

মোহনপুর কেশরহাটের ফার্মেসীগুলো শুধুই যেন প্রতারণার ফাঁদ

 

রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকায় বেশির ভাগ ফার্মেসীগুলো শুধুই যেন প্রতারণার ফাঁদ। যত্র তত্র গড়ে ওঠা ফার্মেসীতে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে ভিজিসিয়ান সিম্পুল ঔষধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ, চেতনা নাশক ওষধ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরণের নি¤œমানের ওষুধ। না বুঝে এধরণের ঔষধ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল মানুষ। তবে এধরণের অসাধু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানিয়েছেন, কেশরহাট বাজার ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি ডা. হারেস আলী আকন্দ। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়োমিত মনিটরিং ব্যবস্থা নেই বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অভিযোগ উঠেছে, রাজশাহী অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্রিক বাজার হিসেবে পরিচিত কেশরহাট। ঔষধ বিক্রয় নীতিমালা উপেক্ষা করেই অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে প্রায় ছোট বড় প্রায় অর্ধশতাধিক ফার্মেসী। এসবের বেশিরভাগেই নেই ছাদ ঢালায়। অনেকেই চালাচ্ছেন টিনসেড দোকানে ঔষধ বিক্রি। আবার ফ্রিজে রাখার মতো ঔষধগুলো খোলাস্থানেই রেখে বিক্রি করছেন। সর্বপরি বিভিন্ন ওষধ কোম্পানির ফিজিসিয়ান ওষধ বিক্রি করছেন চড়া দামে। আর হর হামেসাই বিক্রি করা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ ঘুমের ওষধ। যা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। দ্রæত প্রশাসণসহ স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহলের।

কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের রস্তুম আলী নামে একজন ভুক্তভুগি জানায়, কেশরহাটের প্রায় ফার্মেসীতে ফিজিসিয়ান ঔষধ (বিক্রয় নিষিদ্ধ) বিক্রয়ের আখড়া। এছাড়াও হরদম বিক্রি করা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ মেয়াদ ঊত্তীর্ণ সব ওষধ।নি¤œমানের ওষধ দিয়ে দাম আদায় করা হচ্ছে ষোল আনায়। ব্যবসাযিদের ড্রাগ লাইসেন্স দেখার কেউ নেই বলে যেখানে সেখানে ময়লা, ডোবাই টিনসেডের দোকানে চলছে ফার্মেসী ব্যবসা। এভাবে ব্যবসা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা কামাচ্ছেন ব্যবসায়িরা আর গাভীর দুধ বেচা টাকায় ঔষধ কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গরীব দুখি অশংখ্য মানুষ। দীর্ঘ দিন হতে এবাজারে কোনো মনিটরিং অথবা ভ্্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না হওয়ার কারণে বর্তমানে বেপরওয়া হয়ে উঠেছেন ফার্মেসী মাকিরা। এজন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি কামনা করছি।

জানতে চাইলে কেশরহাটের হাসান ফার্মেসীর মালিক সেলিম রেজা বলেন-এধরণের ফিজিসিয়ান ও যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রির বিষয় ¯ী^কার করে বলেন এসব ঔষধ বিক্রিতে বেশি লাভের কারণে সবা তো বিক্রি করে এজন্য আমিও বিক্রি করি। সবাই বন্ধ করলে আমিও বন্ধ করবো। এছাড়া অন্যকেউ বিক্রি করে অধিক লাভবান হবে আমার ব্যবসা টিকাতে পারবোনা এটা অসম্ভব।

ফার্মেসী ব্যবসায়ি ইমরান হোসেন বলেন রাজশাহী শহরে এসব ঔষধ বিক্রি হয় কোনো বাধা নাই। তাদের দেখাদেখি কেশরহাটের শুধু মাত্র একটি দোকান ছাড়া সব দোকানেই ফিজিসিয়ান সিম্পুলে ভরা। তবে প্রশাসনিক ভাবে কোনো সমস্যা হয়নি এজন্য বিক্রি করছি। বাধা আসলে বিক্রি বন্ধ করে দেবো।

কেশরহাট বাজার ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি ডা. হারেস আলী আকন্দ বলেন ফিজিসিয়ান সিম্পুল ও সরকারি ঔষধ বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এধরণের ওষধে বাজার পরিপূর্ণ। দেদারসে চলছে এধরণের ঔষধের হরদম বিক্রয়। অন্যদিকে কোনো ধরণের অনুমতিছাড়াই বিক্রয় চলছে যৌন উত্তেজক ও ঘুমের ট্যাবলেটসহ নি¤œমাণের ঔষধ। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এধরণের ব্যবসার দ্রæত প্রতিকার হওয়া জরুরী। এজন্য দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট সদয় দাবী জানান তিনি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ