ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের বিশেষ প্রকাশনা বই প্রদান «» দেবহাটায় ছাত্রলীগের দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া-পালটা ধাওয়া: আহত-২ «» ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী «» হিন্দু ধর্মীয় প্রাইভেট শিক্ষককে গ্রেফতার «» ঝিনাইদহে শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে করনীয় বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা «» কুড়িগ্রামে মাদক ও পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত «» দিনাজপুরে স্তন ও জরায়ূ ক্যান্সার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» হাবিপ্রবি’তে ভিশন ও মিশন চূড়ান্তকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» দিনাজপুরে মাদক নির্মুলের জন্য প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত করতে হবে «» ফুলবাড়ী পুলিশের হাতে ৭৫ পিচ ফেন্সিডিল সহ আটক ২

রাজবাড়ীতে  I R I D P  প্রকল্পে ঠিকাদারের অবহেলায় রাস্তার কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে     

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ( ফলো আপ ) ঃ  ঠিকাদারি অবহেলায় (আই আর আই ডি পি) প্রকল্পের রাস্তার কাজের অবহেলা ও ধীর গতির অভিযোগ পাওয়া গেছে । রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউপি’র মুরারীপুর গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডে ৬৫০ কিমি; রাস্তার টেন্ডার অনুযায়ী কাজ পান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আজম কন্সট্রাকশন ঝিল্টুলি ফরিদপুর । সে কাজ কিনে নেন ঠিকাদার রশিদ পাংশা,রাজবাড়ী । কাজের শিডিউল অনুযায়ী এলজিইডি অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৩০ শে এপ্রিল ২০১৮ সালে শুরু করে ৬ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শেষ করার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি নেই একদমই ।(কাজের আইডি নাম্বার- ৫০৮৩)।

রাস্তায় ফেলে রাখা বালি’র জন্য এলাকার লোকজন বিকল্প রাস্তা ব্যাবহার করে গন্তব্যে যায় । এলাকার স্কুল গামী ছাত্র-ছাত্রী দের বিদ্যালয়ে যেতে হয় অন্য পথে ।

এ এলাকায় হটাত অগ্নিকান্ড ঘটলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস যাবার কোনা ব্যাবস্থাও নেই । ঠিকাদারের তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি । ভুক্ত ভুগী এলাকার এক অটোচালক ইসমাইল মিয়া জানান, প্রায় অনেকদিন ধরে রাস্তার এ অবস্থা । রাস্তায় বালি ফেলে অর্ধেক কাজ করে রাস্তা ফেলে রেখেছে । আমি অনেক কষ্টে অন্য রাস্তা দিয়ে বেড় হই অন্যের বাড়ীর উপর দিয়ে সে পথে অটো নিয়ে যাওয়া অনেক বিপদ জনক । এ এলাকায় হটাত কোন রোগী অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাকে হাস্পাতালে নেয়ার জন্য বিকল্প কোন পথ নেই । এহেন পরিস্থিতিতে এলাকার লোকজন রাস্তার কাজ ফেলে রাখায় খুব ভোগান্তিতে রয়েছে ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৯ই মে থেকে ১২ই মে ২০১৯ পর্যন্ত রাস্তার কাজে নিয়োজিত কোনা লোকজন দেখা যায়নি । শুধু রাস্তায় বালি ফেলে রাখা হয়েছে ।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সদর  উপজেলা থানা প্রৌকশলী স্বপন কুমার গুহ জানান , এ রাস্তার কাজের মেয়াদ শেষ । কেবল বালি ফেলানো হয়েছে। আই আর আই ডি পি’র   ৬৫০ মিটার রাস্তার চুক্তি মূল্য ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা । এ কাজের প্রথম ঠিকাদার আজম কন্সট্রাকশন।  প্রথমে কাজের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজম কন্সট্রাকশনকে ২৮ -১ ১৯ তারিখে কেন এ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার  বাতিল করা হবেনা এই মর্মে চিঠি দিয়েছি যার স্বারক নাম্বার-(১৫২) ।

আজম কন্সট্রাকশন জবাবে ১-৪-১৯ পর্যন্ত সময় চায়। অতিরিক্ত সময় দেয়া হলেও কাজ শেষ করা হয়নি । পরে আমি কাজ বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী খান এ শামীম বরাবর চিঠি করেছি। ঠিকাদার রশিদ প্রৌকশলীর কাছে আবার সময় চাইলে সে নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময় শেষ হবার পর ঠিকাদার রশিদ কাজ শেষ করতে না পারায় আমি তাকে ৩ বার নোটিশ করেছি। তারপরও তার কাজের গতি তেমন নেই । তাকে এখন পেলান্টি করা হয়েছে। তার কাজের যত দেরী হবে কাজের মোট বিল থেকে ১০% কর্তন করা হবে । তিনি আরো জানান, আগামী ১৫  জুন এর তার কাজ শেষ করতে না পারলে সে এই কাজের কোন বিল পাবেনা ।”

এ কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঠিকাদার অনুন্নত কাচামাল দিয়ে তরিগরি করে রাস্তার কাজ শুরু করেছে । বালি র এফ এম যেখানে   0.8  সেখানে           0.5  দিয়ে চলছে বালির কাজ । প্রিকেটের বদলে অনুন্নত খোয়া দিয়ে আদলা ইট ভেঙ্গে কাজ চলছে , রাস্তার বালি ও খোয়ার পরিমান ছিলো  1 :1  সেখানে বালির পরিমান বেশি ও খোয়ার পরিমান কম দেখা গেছে । অর্ধেক বালি অর্ধেক খোয়া যেখানে দেয়ার কথা , সেখানে ৩ ঝুড়ি বালি ১ ঝুড়ি খোয়া । অফিসের কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই চলছে রাস্তার কাজ ।

রাস্তার অর্ধেক খোয়ার কাজ শেষ হলেও রাস্তার কাজের মনিটরিং এর কোন কর্মকর্তা যান নি । এ বিষয়ে রাজবাড়ী উপজেলা থানা ইঞ্জিনিয়ার জানান , কাজের মনিটরিং এর লোক আমাদের কম এক জায়গায় মনিটরিং করছে সে ফ্রি হলে তাকে আমি পাঠাবো । কাজে মানের ব্যাপারে তিনি বলেন রাস্তার বালি ও খোয়ার পরিমান ছিলো  1 :1  হতে হবে , না হলে ব্যাবস্থা নিব ।

কিন্তু  এরপর ২০শে মে রাস্তায় অনুন্নত খোয়া ও বালি দিয়ে কাজ শুরু করা হয় ।কিন্তু কাজের মনিটরিং এর জন্য অফিসিয়াল কোন ইঞ্জিনিয়ার বা কর্মকর্তা সরেজমিনে পাওয়া যায়নি ।

এরপর ৩১ শে মে সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার কোন কাজের কোন লোকজন পাওয়া যায়নি । রাস্তার পাশে এক বাড়ীতে রাস্তার কাজে রুলার  রাখা  আছে।   কাজের ধীর গতির  ব্যাপারে  ঠিকাদার রশিদ জানান, আগামী ১৫ই মে এর মধ্যে কাজ শেষ করে দেব।শ্রমিকের অভাব সহ কিছু সমস্যার কারনে ঠিকমত কাজ করতে পারিনি । তবে এব্যাপারে স্থানীয়রা বলেন ,  এতদিন লাগে এটুকু রাস্তা করতে আমাদের জানা ছিলোনা । রাস্তার কাজ সময় মত না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে আছি । রাজবাড়ী সদর  উপজেলা থানা প্রৌকশলী স্বপন কুমার গুহ জানান, আমি কাজের ব্যাপারে প্রায়ই ফোন করেছি কিন্তু সে বলছে কাজ দ্রুত করার চেষ্ঠা করছি । এ কজের পরিদর্শনে তিনি গিয়েছিলেন কিনা এই প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি রাস্তার পাশ দিয়ে প্রায়ই যাই কিন্তু রাস্তা পরিদর্শনে যাওয়া হয়নি । ?

সরকারি আই আর আই ডি পি’র  বাংলাদেশের  সকল কাজের সময় সীমা ১৫ ই জুন পর্যন্ত বলে জানাগেছে । কিন্তু এ রাস্তার কাজের প্রায় ৩০ % ও শেষ হয় নি । কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে নিম্ন মানের মালামাল দিয়ে ধীর গতিতে চলছে রাস্তার সংস্কার কাজ।  দেশে যখন উন্ননের ছায়া সব যায়গায় সারা যাগিয়েছে  -ঠিকাদারদের এই অবহেলা ও গাফিলতি সরকারি এই কাজের কতটুকু সার্থকতা আনবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি কতটুকু অক্ষুন্ন থাকবে । সরকারের এ ধরনের উন্নয়নমুখী কাজে কঠিন তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা । 

যে মুহুর্তে সরকার সারাদেশে রাস্তা, ঘাট, ব্রীজ,কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থাপনা উন্নয়নে অগ্রগণ্য ভ‚মিকা রাখছেন। ঠিক সেই মুহুর্তে কতিপয় ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীর অনিয়ম দ‚র্নীতির কারনে এসব নির্মান কাজ নিম্ন মানের হওয়ায় সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হতে বসেছে। এমন মন্তব্য করেন ওই এলাকার সচেতন মহল।

                                                                                                                                           -ফলো আপ চলবে  

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ