ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০১৯ ইং, ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :

রাজবাড়ীরতে শিশু শ্রেণির ‘প্লে উইথ পিকচার’ বই চাপিয়ে দিয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা !

রাজবাড়ী  : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে বছরের শুরুতেই শিশুদের হাতে সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে বই প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। সে মতে ২০১৯ সালেও প্রতিটি শিশু বই উৎসবের মাধ্যমে নতুন বই হাতে পেলেও ফেব্রুয়ারী মাসে উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক প্রাক-প্রাথমিকের ‘প্লে উইথ পিকচার’ নামে ১০টি করে বই প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কে চাপিয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের প্রশ্ন কার স্বার্থে এই বই চাপিয়ে দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম। আর সরকারী বরাদ্দ হলেই কি তার ইচ্ছা মত ব্যয় করা যায় এমন ক্ষোভ জানিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোন সমস্যা নেই বইয়ের অর্থ প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করে নিবেন প্রধান শিক্ষকগণ।
জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলায় জাতীয়করণকৃত সহ ৯৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্লে উইথ পিকচার নামে ২৬ পৃষ্ঠার (এপিট-ওপিট মিলে) প্রাক-প্রাথমিকের ১০টি করে বই দেয়া হয়েছে। বইটির দ্বিতীয় পাতায় নিদের্শনায় প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম আল হোসাইন এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলামের (বর্তমানে তিনি শিবালয়, মানিকগঞ্জে কর্মরত) নাম রয়েছে। ওই পৃষ্ঠার নিচের দিকে ‘প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে পরিশোধ যোগ্য।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি ও স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, প্লে ইউথ পিকচার নামে ১০টি বই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে দিয়েছে, যার মূল্য বাবদ প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে ৮০০ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। সরকার কর্তৃক বছরের শুরুতেই শিশুদের জন্য ৪ কালার রঙিন ছবিসহ চমকপ্রদ বই পেয়ে থাকি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম স্যার কার স্বার্থে এই বই আমাদের চাপিয়ে দিলেন সেটি বুঝতে পারলাম না, বই দিয়ে কি করব সেটাও বোধগম্য নয়। বই গুলো এনে রেখে দিয়েছি, দেখি কি করা যায়।
নাম প্রকাশ না করার সর্ত্বে একজন শিক্ষক জানান, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য এবার স্কুল প্রতি ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যে বরাদ্দ এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষকের হিসাবে জমা হয়নি, কাজও শুরু হয়নি। এর আগেই প্রাক-প্রাথমিক থেকে বই ক্রয়ের অর্থ সমন্বয় করার কথা বলা মানে কিছু অসাধু শিক্ষকের অর্থ লোপাটের পথ দেখিয়ে দেওয়া মাত্র।
বালিয়াকান্দি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সিরাজুল ইসলাম স্যার প্লে উইথ পিকচার নামে ১০টি বই ৮০০ টাকা দিয়ে কিনে নিতে বলেছেন, স্যার বলেছেন তাই নিয়েছি তবে প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে সে টাকা সমন্বয় করে নিতে বলেছেন স্যার।
নলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শশাঙ্ক শেখর ভৌমিক বলেন, ১০টি বই অফিস থেকে নিয়েছি, তবে টাকা দেইনি প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে উত্তোলন করে টাকা পরিশোধ করব। বইয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং বাজার মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানিনা।
তৎকালীন বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি স্কুলে ১০টি করে বই দেয়া হয়েছে। বই বাবদ তারা ৮০০ টাকা জমা দিবেন যা প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করে নিবেন। এই বই কার স্বার্থে বা কোন প্রেস থেকে করা এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি ফোনের লাইনটি কেটে দেন।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, সিরাজুল ইসলাম স্যার বই বিক্রির অধিকাংশ টাকাই শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়েছেন। কোন প্রেসের সাথে কিভাবে করেছেন জানিনা। যাদের টাকা বাকী আছে তাদের টাকা নিয়ে স্যারের কাছে পৌছে দিতে বলেছেন। ১০টি বই বাবদ ৮০০ টাকা করে দিতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ