ঢাকা বুধবার, ২৬শে জুন, ২০১৯ ইং, ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» গাইবান্ধায় অনুর্দ্ধ-১২ ক্রিকেট কার্ণিভাল অনুষ্ঠিত «» গোবিন্দগঞ্জে খাদ্য গুদামে চাল নিয়ে চালবাজী «» সাদুল্ল্যাপুরে ভিজিডি কর্মসূচির নিম্নমানের১০২বস্তা চাল আটক «» গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে অবহিতকরণ সভা «» নিয়োগ বানিজ্য ঠেকাতে জনতার সমূখ্যে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার «» বিধবা কে ধর্ষনের চেষ্টায় মামলার আসামিকে আটকের দাবী «» গাইবান্ধায় পিপিআই কমিটির আলোচনা সভা «» রাজবাড়ীতে বাল্যবিবাহের তথ্য দিয়ে ৫ হাজার টাকা পুরষ্কার পেলেন পুলিশ অফিসার  «» নব-নির্বাচিত এম পি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আলহাজ্ব মোশরফ হোসেন এম পি «» কাহালু পৌরসভার ২০১৯-২০ইং অর্থ বছরের প্রায় সোয়া ১৩ কোটি টাকা বাজেট ঘোষনা

শাশ্বত আলোর পথের নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন পাঠাগার

 শিক্ষক মস্তাক আহম্মেদ সরকার 

 

শিমুল রেজা চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধিঃ : চুয়াডাঙ্গা সদরের নির্ভৃত পল্লীতে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ম.আ সরকার পল্লী পাঠাগার পাঠাগার আলোকিত করে তোলে মানুষকে। পাঠাগার মানুষকে তার আত্মিক অন্বেষণের পথ নির্দেশ করে যা ক্ষুধা-তৃষ্ণা; শ্বাস- প্রশ্বাসের মতোই একান্ত জরুরি। আমাদের সমাজকে শিক্ষিত করে তুলতে হলে, শিক্ষিত রাষ্ট্র পেতে হলে আমাদের চাই আলোকিত মানুষ। আর আলোকিত মানুষ পেতে চাই পাঠাগার।
পাঠাগার মানুষের জ্ঞানের সব দুয়ার উন্মোচন করে মানবাত্মা করে তোলে প্রজ্বলিত। পাঠাগার আমাদের চার পাশের রহস্যময় বিশ্বের দুয়ার খুলে দেয়। সমাজের মস্তিষ্ক ও জ্ঞানাধার হলো পাঠাগার। তাই দীপ্ত, মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে সুশীল সমাজ পাওয়ার লক্ষ্যে সমাজের প্রতিটি স্তরে জ্ঞানের আলোকবর্তিতা পৌঁছে দিতে হবে এই স্বপ্ন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদরের নিভৃত পল্লী ৬২ নং আড়িয়া গ্রামে স্কুল শিক্ষক মস্তাক আহম্মেদ সরকার নিজ উদ্যোগে সবুজ, ছায়া ঢাকা নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তুলেছেন ম.আ.সরকার পল্লী পাঠাগার। আলোকিত মানুষ চাই, একটি গ্রাম একটি গাঠাগার স্লোগানকে সামনে রেখে নিস্বার্থভাবে পরিচালনা করছেন পল্লী পাঠাগারটি। শাশ্বত আলোর পথের পদ প্রদর্শক শিক্ষক মস্তাক আহম্মেদ সরকারের সাথে কথা হয় তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পল্লী পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পিছনের গল্প নিয়ে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬ নং তিতুদহ ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী ৬২ নং আড়িয়া গ্রামের এক মুসলিম কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। ৫ ভাই আর ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। অধম্য মেধাবী হওয়ায় পিতার কৃষি কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি তিনি নিজের লেখাপড়াটাও চালিয়ে গেছেন শত বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে। ১৯৮৯ সালে তিনি এসএসসি পাশ করেন। শত কষ্ট আর অভাবের মধ্যেই বিএসএস পাশ ( ডিগ্রী) শেষ করলেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিজ গ্রাম সহ আশেপাশের গ্রামের মানুষদের মধ্যে অশিক্ষার অন্ধকার দুরে করে কিভাবে আলোকিত মানুষ গড়া যায় তাই নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। একদিন খূজে পেলেন সেই দিশা। পাঠাগার বা লাইব্রেরীই পারে একমাত্র সমাজ থেকে এই অশিক্ষার অন্ধকার দুর করতে। তিল তিল করে জমা করলেন কিছু অর্থ। তা দিয়ে কিনলেন কিছু বই। নিজের বাড়ীতেই গড়ে তুললেন ছোট একটি পাঠাগার। তবে পড়ার মত লোক নেই। সব চেষ্টায় যেনো বিথা মস্তাক আহম্মেদ সরকারের। তখনই পাশে এসে দাড়ালেন বাল্য বন্ধু চুয়াডাঙ্গা জেলার সাহিত্যের এক উজ্জল নক্ষত বহু গল্প ও উপন্যাসের রচিয়তা মিজানুর রহমান মন্ডল।
মস্তাক আহম্মেদ সরকারের পাশ থেকে দিতে থাকেন উৎসাহ। দুজনই গ্রামের মানুষকে পাঠাগার মুখী করার জন্য দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চালাতে লাগলেন। ইতিমধ্যে গ্রামেই প্রতিষ্ঠিত হল একটি প্রাইমারী স্কুল। সেই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করলেন মস্তাক আহম্মেদ সরকার। দীর্ঘদিন বিনা বেতনে শিক্ষকতা । তাতে কোন দুঃখ নেই তার। এলাকায় একদিন শিক্ষার বাতি জ্বলে উঠবে সেই স্বপ্নে বুক বেধে রইলেন তিনি। একদিন দুই বন্ধু মিলে পরামর্শ করে বের করলেন শুধুমাত্র বাড়ীতে লাইব্রেরী দিয়ে কাউকে লাইব্রেরী মুখি করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ। আর বিভিন্ন আয়োজন।
মস্তাক আহম্মেদ সরকার তাই পৈতিকসুত্র পাওয়া অংশীদারী পুকুরটা কেই বেচে নিলেন। নিজ মাথায় মাটির ঝুরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট করলেন পুকুরের একটু অংশ। এরপর বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধার দেনা করে টিনের একটি ঘরও তৈরী করলেন সেখানে। তিল তিল করে গড়ে তুলনে ম.আ.সরকার পল্লী পাঠাগার। এলাকার মানুষকে পাঠাগার মুখি করার জন্য ম.আ, সরকার ও তার বাল্য বন্ধু মিজানুর রহমান মিলে বেশ কিছু উদ্দ্যোগ নিলেন ।অবসরে গান-বাচনা শেখার জন্য কিনলেন বাদ্য যন্ত্র। বাড়ী বাড়ী যেয়ে ছেলে মেয়েদের বই পড়ার সুফল সম্পর্ক অবহিত করার পাশাপাশি সাপ্তাহিক বই পড়ার আসর আর প্রতিযোগিতা।
সেই প্রতিযোগিতায় যে প্রথম হয় তাকে দেওয়া হয় পুরস্কার। প্রাচীন কালের পুথি পাঠের মতই চলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ম.আ.সরকারের পল্লী পাঠাগারে বই পড়ার আসর। একগুমিয়ে কাটানোর জন্য বসানো হয় গানের আসর। হারমোনিয়াম, ডুগি তবলা আর বাঁশের বাশির মধুর সুরে যেনো হ্যামিলিয়নের যাদুর বাশির মত ছুটে আসে গ্রামের নারী,পুরুষ সহ সব বয়সী মানুষ। পাঠাগারের সামনে একটি ছোট দোকানে বিকাল বেলা মুখরোচক পিয়াজো ভাজা খেতে এসেই একটু বই পড়ে মনের অন্ধকার দুর করে এলাকার যুবকরা। প্রতিমাসেই এলাকার শিক্ষিত মানুষদের নিয়ে পরামর্শ বৈঠক বসানো হয়।
কিভাবে এলাকার মানুষকে পাঠাগার মুখি করা যায় সে বিষয় নিয়ে বিস্তার আলোচনা আর সেই আলোচনা মোতাবেক কর্ম বৈঠকে সকলের মতামত গ্রহন করা হয় গ্রামের মানুষদের কিভাবে বউ পড়ার উপর আগ্রহ সৃষ্টি করা যায় তা নিয়ে। মস্তাক আহম্মেদ সরকারের স্বপ্ন শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দুর করা। তিল তিল করে সেই স্বপ্ন বাস্তবতা পাচ্ছে তারই জীবন দশায় একটায় তার সব থেকে বড় পাওয়া। এখন প্রতিদিন সন্ধ্যায় সব বয়সী মানুষের বই পড়ার আড্ডা চলে পাঠাগার প্রাঙ্গনে। ম.আ.সরকার পল্লী পাঠাগারের মত বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই গড়ে উঠবে একটি করে পাঠাগার।
যেখান থেকে জ্ঞানের আলো সংগ্রহ করে অশিক্ষার আধার দুর হবে বাংলাদেশ থেকে। এই প্রত্যাশায় ব্যক্ত করলেন মস্তাক আহম্মেদ সরকার। ম.আ.সরকার পল্লী পাঠাগারের বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি সহ যাবতীয় সহযোগিতার জন্য চুয়াডাঙ্গা সুযোগ্য জেলাপ্রশাসক সহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ