ঢাকা বুধবার, ২২শে মে, ২০১৯ ইং, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
ADD
শিরোনাম :

 তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর (প্রথম দিন)

                                মাওলানা : মো : রায়হানূর রহমান

পৃথিবীতে দু’ধরণের বর্ষপঞ্জি প্রচলিত আছে, সৌরবর্ষ ও চন্দ্রবর্ষ । সূর্যের উদয়স্থল ও সময়ের পার্থক্যের কারণে নির্ধারণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা। এর একপার্শে¦ রাত হলে অন্য পাশের্^ দিন, কোথাও সকাল দশটা হলে অন্যপাশের্^ রাত দাশটা। বিশে^র সকলেই এই নিয়ম মেনে চলছেন। তাহলে চাঁদের উদয়-অস্তের ভিন্নতা মেনে নিতে অসুবিধা কোথায় ? কেন সৌদি আরবের সাথে মিল করে সারা বিশে^ একই দিনে সাওম পালন বা ইফতার করতে হবে ? তারা যখন সাহরি খায় আমরা তখন সাহরি খেলে কী রোজা হবে ? তাদের সাথে কি আমরা ইফতার করতে পারব ? তাই চাঁদ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে যখন যে দেশে চাঁদ দেখা যাবে তখন তারা রোজা ও ঈদ পালন করবে এটাই স¦াভাবিক। আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে । নবী (সা) বলেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর (রোজা শেষ কর) । তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে শা’বানের তারিখ ত্রিশদিন পূর্ণ কর। (বুখারি : ১৮৭১, মুসলিম : ২৩৮৫, নাসাঈ : ২১২৩)। তাই বলা যায় এক দেশের চাঁদ দেখা অন্য দেশের লোকদের জন্য প্রযোজ্য হবে না : কুরায়ব রঃ বলেন, আমি সিরিয়ায় জুমআর দিন রমজানের চাঁদ দেখলাম (এবং রোজা রাখতে শুরু করলাম)। রমজানের শেষভাগে আমি মদিনায় আসলাম । আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) আমার সাথে চাঁদ দেখার বিষয়ে আলোচনা করলেন । আমি বললাম, আমরা তো (সিরিয়ায়) জুমআর দিন চাঁদ দেখেছি । মুআবিয়া (রাঃ) সহ লোকেরা সে অনুযায়ী সিয়াম পালন করছে ।  তিনি বললেন, আমরা তো শনিবারে চাঁদ দেখেছি । আমরা সিয়াম পালন করতে থাকব, শেষ পর্যন্ত ত্রিশদিন পূর্ণ করব অথবা চাঁদ দেখব । আমি বললাম, মুআবিয়া (রাঃ)  এর চাঁদ দেখা কি আপনার জন্য যথেষ্ঠ নয় ? তিনি বললেন না, যথেষ্ঠ নয় । কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে এভাবেই আমল করতে বলেছেন । (মুসলিম : ২৩৯৯, নাসাঈ : ২১১০, তিরমিযি : ৬৯৩,  ইমাম তিরমিযি বলেন, আলেমগণ এ হাদিস অনুসারে আমল করেছেন । তাদের মতে প্রত্যেক অঞ্চলের লোকদের জন্য তাদের চন্দ্র দর্শনই ধর্তব্য হবে । সুনানে তিরমিযি, আরবি : ১৪৯ পৃষ্ঠা) । চাঁদ দেখার ব্যাপারে দু’জন বিশ্বস্ত লোকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য : একবার শাওয়ালের চাঁদ দেখার ব্যাপারে সাহাবাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল । তখন দু’জন বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, তারা গত সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখেছে । তখন রাসূলুল্লাহ (সা) লোকদেরকে রোজা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন এবং আগামী দিনে ঈদগাহে এসে ঈদের নামাযে অংশ নিতে বলেন । (আবু দাউদ : ২৩৩৮) । আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ (রাঃ)  সূত্রে । রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমাদের দু’জন লোক চাঁদ দেখার ব্যাপারে সাক্ষী দিলে তোমরা তা গ্রহণ করবে এবং রোজা পালন করবে বা ভঙ্গ করবে ।  (নাসাঈ : ২১১৫) ।

মাওলানা : মো : রায়হানূর রহমান

সহকারী শিক্ষক : এ.পি.বিএন. পাবলিক স্কুল ও কলেজ , বগুড়া সদর, বগুড়া।

মোবা : ০১৭৩৯-৮৫০৬৫৬,    gmail : rrahman.rr75@gmail.com 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ