ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭শে জুন, ২০১৯ ইং, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী লীগের বিশেষ প্রকাশনা বই প্রদান «» দেবহাটায় ছাত্রলীগের দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া-পালটা ধাওয়া: আহত-২ «» ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী «» হিন্দু ধর্মীয় প্রাইভেট শিক্ষককে গ্রেফতার «» ঝিনাইদহে শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে করনীয় বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা «» কুড়িগ্রামে মাদক ও পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত «» দিনাজপুরে স্তন ও জরায়ূ ক্যান্সার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» হাবিপ্রবি’তে ভিশন ও মিশন চূড়ান্তকরণ বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত «» দিনাজপুরে মাদক নির্মুলের জন্য প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত করতে হবে «» ফুলবাড়ী পুলিশের হাতে ৭৫ পিচ ফেন্সিডিল সহ আটক ২

মাগো আমি ঈদে বাড়িতে আসছি………

-লেখক মোঃ ফিরোজ খান

…………………………………………………………………………………………………..

জীবনের সন্ধিক্ষণে মরণের শেষ সময়ে আমাদের কতনা স্বপ্ন পূরণ বাকি থেকে যায়।আমরা অনেকেই অনেক কিছু করতে পারিনা, আবার অনেকেই আছেন যা করতে হবে তার চেয়েও বেশি কিছু করে থাকেন।এভাবেই জীবন তরী ধীরে ধীরে তার গন্তব্যে পৌঁছে থাকে আর সকলেই চেষ্টা করে থাকেন তার সুন্দর স্বপ্ন পূরণ করতে।

এইতো গত রবিবারের কথা ০৩/০৬/২০১৯ দুপুর বেলা রাজীব ছেলেটি যে ছেলেটি ছিল সমা-বাবার একমাত্র সন্তান।মা-বাবা তাকে অনেক কষ্টের মাধ্যমে বি এ পাস করিয়াছেন।বিয়ে পাস করেঈ রাজীব শহর মুখী হয়েছিলেন।রাজীব তার বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করতে।শহরে এসে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী নিয়েছিল বেতনও মোটামুটি ভালো ছিল।বিগত ৫ টি বছর সে শহরের মাঝে কাটিয়েছেন ।তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং মা-বাবার কথা মনে করেই এবারের ঈদে লম্বা ছুটি নিয়েছিল বাড়িতে যাবে বলে।মা-বাবার জন্য অনেক কাপড় কিনেছিলেন।কতো স্বপ্ন ছিল বাড়িতে গিয়ে মায়ের হাতের ভালো ভালো খাবার খাবেন।এবং তাদের পুরনো কুড়ে ঘরটি ভেঙে একটি সুন্দর ঘর তৈরি করে দিবেন মা-বাবা যেনো সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন।

মা-বাবাকে রাজীব আগেই জানিয়েছেন যে সে এবারের ঈদে আগেই বাড়িতে যাবেন।যার জন্য একমাত্র ছেলের জন্য পথ চেয়ে ছিলেন খোকা বাড়িতে আসবেন এবং খোকার জন্য সুন্দর টুকটুকে একটি বউ ঘরে আনবেন।
রাজীবও অনেক স্বপ্ন নিয়ে, অনেক আশা করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি একটি সিএনজি নিয়ে মহাখালী থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলেন এবং সময় মতো যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌছেছিলেন।বাসের টিকিট আগে থেকেই কেটে রেখেছিলেন তাই সাথে সাথে বাসস্ট্যান্ড গিয়ে বাসে উঠে মনের খুশিতে রওয়ানা হলেন।মাওয় ফেরিঘাট গিয়ে পৌঁছনোর পরে রাজীব ফেরী পার হয়ে আবার বাই রোডে অন্য একটি মাইক্রোবাসে উঠলেন।মাইক্রোবাসে যাত্রী ছিলো মোট ১২ জন।রাজীবের গ্ৰামের বাড়ি পটুয়াখালী ছিলো।

রাজীব বাসা থেকে রওয়ানা হওয়া থেকে সবসময় তার মা-বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছেন।তাই তার মা-বাবা তার ছেলের জন্য ভালো ভালো খাবারের ব‍্যবস্থা করে রেখেছিল।
কিন্তু কে জানতো ভালো ভালো খাবার কেউ খেতে পারবেনা?কেমন জীবন আমাদের?
হায়রে স্বপ্ন তুমি স্বপ্ন দেখিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেও?তাহলে কেনোই স্বপ্ন দেখতে সুযোগ দিয়েছিলে? সেই কথা রাজীবের জানা ছিলনা। ছুটে চলছিল মাইক্রোবাসটি আর রাজীব আনন্দের সঙ্গে ভাবছিল তার মায়ের কথা তার বাবার কথা। কিন্তু রাজীবের জানা ছিলনা তার চলার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু দূত আজরাইল ও ছুটে চলছে।হঠাৎ একটি শব্দ শুনে ছিল রাজীব।তার পর আর কিছু বলতে পারছিলনা রাজীবের পাশাপাশি বেচে থাকা লোকটি।।লোকটি হাউমাউ করে কেদে ফেললো।মাইক্রৈবাসে মোট ১২ জন যাত্রী ছিল।তাদের মধ্যে শুধুমাত্র রাজীবের মৃত্যু হয়েছিল আর বাকিরা সবাই গুরুতর আহত হয়েছিল। বাকী ১১ জন মৃত্যুর সঙ্গে পাজ্ঞা লড়ছিল হাসপাতালের বেটে।

অনেক সময় পেরিয়ে গেলো রাজীবের কোনো ফোন যাচ্ছিলোনা তাদের মা-বাবার কাছে।আর তখন থেকেই মা-বাবা বারে বারে ফোন করতে থাকেন।কিন্তু এক সময় রাজীবের সঙ্গে থাকা একজন যাত্রী ফোন রিছিব করলো।হ‍্যালো বাবা রাজীব এতো দেরি কেনো?আর কতোবার তোমাকে ফোন করছি তুমি ফোন ধরছোনা কেনো বাবা?যিনি ফোন রিছিব করেছিলেন তিনি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বলে উঠলেন আন্টি আমি রাজীব নই!আমি আপনার ছেলের সঙ্গে ছিলাম একই মাইক্রোবাসে।আপনার ছেলের নাম রাজীব তা জানতে পেরেছি আপনার ছেলের পকেটে থাকা অফিসের আইডি কার্ড দেখে।

আন্টি আমাদের মাইক্রোবাসটি এ্যকসিডেন্ট হয়েছে!আপনার ছেলে গুরুতর আহত তাকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি আপনারা তাড়াতাড়ি চলে আসুন।রাজীবের মা হাউমাউ করে জোরে জোরে কেদে উঠলেন আর বলতে ছিলেন আমার সোনা মানিকের কিছু হয়নি তো বাবা?কেমন আছেন আমার কলিজার টুকরো মানিক?লোকটি কেদে কেদে বলতে ছিলেন ভালো আছে কিছু হয়নি আপনারা যতটা সম্ভব দ্রুত চলে আসুন।

মা-বাবা ঠিক দুই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে চলে এসেছিলেন।হাসপাতালে।কি করুণ পরিণতি?কি বেদনাময় দৃশ্য?সত্যিই কথাগুলো শুনে আমিও কিছুতেই দুচোখে জল আটকিয়ে রাখতে পারছিলাম না।সাদা রঙের পোশাক দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে রাজীবের দেহ।ডাক্তার কাপড় সরিয়ে দেখালেন রাজীবের মা-বাবাকে।
সঙ্গে সঙ্গে রাজীবের বৃদ্ধ মা জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন আর বাবা পাথর হয়ে গেলেন একটুও কাদতে পারছিলেন না।

অবশেষে রাজীব ফিরেছিলেন তার মা-বাবার সঙ্গে গ্ৰামের বাড়িতে।শুধুমাত্র লাশ হয়ে।মা-বাবার চোখের পানি যেনো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঝরেছিল কখনোই থামবে না তাদের চোখের পানি।রাজীব তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি শুধুমাত্র একটি দূর্ঘটনা হাজার রাজীবের জীবন কেড়ে নিয়ে যায়, আর হাজার মা-বাবার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় চিরকাল।অবশেষে বলবো একটু সর্তকতা অবলম্বন করে গাড়ি চালাতে পারলে হয়তো রাজীবের মতো মানুষের জীবন প্রদীপ এতোটা সহজে নিভে যাবেনা আর অপেক্ষায় থাকা সন্তানের জন‍্য হাজার মা-বাবা পথ চেয়ে থাকতে হতোনা।খোকা কখন বাড়িতে আসবে?খোকা কখন বাড়িতে এসে বলবে মা-ও মা কতোদিন দেখিনি তোমার মুখখানা?কতোদিন খাইনি তোমার হাতের বানানো পিঠা।

আমার যেনো আর কোনো রাজীবের মৃত্যুর কথা না লিখতে হয়।তবেআমি এই ঘটনা জানতে পেরেছি বলেই হয়তো লিখলাম তবে এমন ঘটনা যেনো আর শুনতে না হয় কারো। ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে প্রিয় জনের সঙ্গে হাসিখুশীতে কিছু দিন কাটানো ।তবে কেনো ই বা ঈদ মানে সারাটি জীবনের কান্না হয়ে থাকে।? বৃদ্ধ মা-বাবার চোখের পানি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঝড়ে পরে?কেনো সুন্দর স্বপ্ন মূহুর্ত্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়?।আমরা সারাবছর শহরে থাকবে পরে এই ঈদকে সামনে রেখে অনেক কষ্টের পরে ঈদের আনন্দের কথা ভেবে গ্ৰামের বাড়িতে যেয়ে থাকি আর তখনই অপেক্ষায় থাকে মা-বাবা, ছোট ছোট ভাই-বোন,ও কারো কারো প্রিয় প্রেয়সী।এই দিনটির জন্য পথ চেয়ে থাকে?আর এই পথের মাঝে কেনো মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবন ছিনিয়ে নিয়ে যান?তবুও চোখের পানি ঝড়িয়ে বলতে হয় মহান আল্লাহ তাআলা যাহা করে থাকেন সেটা সবসময় তার বান্দার মঙ্গলের জন্য করেন।

কিন্তু আমরা যে বাঙালি?আমরা যে মায়ের সন্তান!আমরা বাংলাদেশের মানুষ।আমাদের ভালোবাসা শুধুমাত্র এই মাতৃভূমি মাকে।আমাদের স্বপ্ন সুন্দর সুফলা সোনার বাংলাদেশ। মায়ের টানে নাড়ীর টানে আমরা আনন্দের সঙ্গে গ্ৰামের বাড়িতে যেয়ে থাকি আর কখনও কখনও এই আনন্দ চির দিনের জন্য কান্নার কালো সাক্ষী হয়ে থাকে।এভাবে ঈদ উপলক্ষে কতনা হাসিখুশি মুখ চিরকালের জন্য কান্নার ঈদ হয়ে ধরা দেয় অনেক পরিবারের মাঝে। ঈদ উপলক্ষে কেউ কেউ হাসেন আবার কেউ চিরকাল তার প্রিয় জনকে হারিয়ে কেঁদে কেঁদে জীবন শেষ করে দেন।রাজীব তার মাকে ফোনে বলেছিল মাগো কতদিন দেখিনি তোমার মায়া ভরা মুখটি কতোদিন বাবার সঙ্গে বাজারে যাওয়া হয়নি।তাই আজ ৫টি বছর পরে বাড়িতে আসবো তুমি আমাকে অনেক পিঠা বানিয়ে খাওয়াবে।তার মা বলেছিল খোকা তুই যে আমাদের কলিজার টুকরো,তোর জন্য আমরা কতোটা ভেবে থাকি তা তুই বুজতে পারবিনা, হ‍্যা একদিন বুজতে পারবে তুমিও যেদিন বাবা হবে সেদিন ঠিকই আমাদের কথা ভাববে যে সন্তানেরা মা-বাবার কতটা প্রিয়।

রাজীবের মা হেসে হেসে তার সন্তানকে বলেছিল
খোকা তুই বাড়িতে আসলে আমরা তোর জন্য একটি লাল টুকটুকে পরী এনে দিবো।আমরা দুজনে বুড়ো হয়ে গেছি আর ভালো লাগেনা আমাদের একা একা।তাই একটি লক্ষী বউ ঘরে নিয়ে আসবো।রাজীব তার মায়ের কথা শুনে মনে মনে অনেক খুশি হয়েছিল, যা তার জীবনে সবচাইতে আনন্দের ক্ষণ ছিল।কিন্তু এই আনন্দ এক পলকে শেষ হয়ে গেল।একটুও বুজতে পারেনি রাজীব আর কখনও তার মায়ের মুখটি দেখা হবেনা ।কখনও তার বাবার সঙ্গে বাজারে যেতে পারবেনা।

জীবনের চেয়ে সময়ের দাম অনেক বেশি।তাই একটি জীবন হয়তোবা অনেক জীবনের কাছে অনেক বেশি প্রিয়।আমরা যাত্রা পথে নিয়মাবলী মেনে চলবো,এবং বিশেষ করে চালক ভাইদেরকে বলবো আপনারা তাড়াহুড়া করে কখনও গাড়ি চালাবেন না।আপনাদের অবহেলা হয়তোবা একটি জীবনের প্রদীপ চিরকালের জন্য নিভিয়ে ফেলে।তাই নিজেকে ভালো বাসুন আর অন‍্যের জীবন কে ভালো বাসতে শিখুন।

………………………………………………………………………………………………………………………..

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ