ঢাকা শনিবার, ২৫শে মে, ২০১৯ ইং, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
ADD
শিরোনাম :

যশোর এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

যশোর অফিস:মধুসূদন তারাপ্রসন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের (এমএসটিপি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রাণির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তড়িঘড়ি করে ওই শিক্ষককে সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়ে দায় সেরেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষককে বাঁচাতে অধ্যক্ষ নিজে মাঠে নেমেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলে দিয়েছেন, কারো কোন অভিযোগ থাকলে সরাসরি অধ্যক্ষ’র সাথে কথা বলতে। বাইরের কারো সাথে কেউ যেন কোন কথা না বলে।
অভিযোগে জানা গেছে, মধুসূদন তারাপ্রসন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের (এমএসটিপি) গণিত বিষয়ের শিক্ষক আব্দুল খালেক শ্রেণি কক্ষে ছাত্রীদের সাথে অশোভন আচারণ করেন। তিনি ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন। শরীরের স্পর্শকাতর এলাকায় হাত দেন। অনেক সময় শিক্ষার্থীদেরকে শ্লীলতাহানীর ঘটনাও ঘটান। যৌন নির্যাতন করেন। পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখান। এ কারণে অনেকে ভয়ে এসব বিষয়ে ছাত্রীরা মুখ খুলতে সাহস পায় না। সর্বশেষ বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। চলতি মাসর ৩ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ খায়রুল আনামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ করে।
অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে অগেও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। তাকে এর আগেও সর্তক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সংশোধন হওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে বাধ্য হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষক আব্দুল খালেককে রক্ষার করার জন্য ওঠে পড়ে লাগে অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম। তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নানা রকম ছলচাতুরের আশ্রয় নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২৩ এপ্রিল শিক্ষক আব্দুল খালেককে সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়ে দায় সেরেছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেননা। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল খালেককে আশ্বস্ত করে বলেছেন, তার কিছুই হবে না। তবে তিনি (আব্দুল খালেক) যেন কারো সাথে কোন কথা না বলেন। আর শিক্ষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তারা যেন গণমাধ্যমের সামনে কথা না বলেন।
এ ব্যপারে ২২ এপ্রিল কথা হয় কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আনামের সাথে। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ৬ জন শিক্ষককে দিয়ে তদন্ত করেছি। স্কুলের সভাপতি এমপি সাহেব (কাজী নাবিল আহমেদ)। তার কাছে আমরা রিপোর্ট জমা দেব।
এরপর ২৪ এপ্রিল ক্যামারে নিয়ে অধ্যক্ষর বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য কলেজে গেলে অধ্যক্ষ সতর্কীকরণের নোটিশ এ প্রতিবেদককে দেখান। তিনি বলেন, আমি ক্যামেরার সামনে কোন বক্তব্য দেব না। আপনারা যা খুশি তাই লেখন।
শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের বিষয়ে সভাপতি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি ম্যাসেজ পাঠিয়ে তার কোন প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।  

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ