ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» লামা উপজেলাধীন ফাইতং ইউনিয়নের  ইটভাটা মালিকদের অবৈধ পাহাড়  কাটা  «» চমেক হাসপাতালের আগুন এখন নিয়ন্ত্রনেঃ ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক টাকা «» পলাশবাড়ীতে অজ্ঞান পার্টির ৪ সদস্য গ্রেফতার,সিএনজি ও মোবাইল উদ্ধার «» গাইবান্ধা থেকে বন্যার পানি কমছে না «» পলাশবাড়ীর হাট-বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি «» ডোমারে বর্যার কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» চট্টগ্রামের পতেঙ্গা লালদিয়া চরের উচ্ছেদকৃত মানুষের আহাজারীতে কাঁপছে আকাশ-বাতাস «» চট্টগ্রামের অক্সিজেনে চসিক’র অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান «» র‌্যাব-৮ মাদারীপুর এর অভিযানে ১২ হাজার পাঁচশত পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ট্রাকসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক  «» চিরিরবন্দরে স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগ ঘাতক স্বামী আটক

মাগুরায় সেয়ে গেছে লিচুর চাষ

মাগুরাপ্রতিনিধি\ মাগুরার লিচুগ্রাম খ্যাত সদর উপজেলার হাজরাপুর, ইছাখাদা, খালিমপুর, মিঠাপুর,হাজিপুর আঠারখাদা শীবিরামপুর সহ অন্তত ২৩গ্রামে এখন লিচুর ভরা মৌসুম। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে লাল রঙ্গের পাকা টসটসে রসালো লিচু। মাগুরা উপর দিয়ে গোপালপুর ঝিনাইদহ হয়ে যারা চুয়াডাঙ্গা,কুষ্টিয়া মেহেরপুর সহ বিভিন্ন জেলায় যান জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরত্বে ইছাখাদা পৌঁছলেই তারা রাস্তার দু’ধারে দেখতে পাবেন সারি সারি লিচু বাগানের এ মনোরম দৃশ্য। লিচু গ্রামখ্যাত এসব এলাকার দেড় হাজার বাগান থেকে এবার প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার লিচুর কেনাবেচা হবে বলে চাষিরা জানিয়েছেন।সদর উপজেলার হাজরাপুর, হাজীপুর ও রাঘবদাইড় ইউনিয়নের ইছাখাদা, মিঠাপুর, খালিমপুর, মির্জাপুর, পাকাকাঞ্চনপুর, বীরপুর, রাউতড়া, রামনপুর, আলমখালী, বেরইল, লক্ষিপুর, আলাইপুর , নড়িহাটিসহ ২০ টি গ্রামের চাষিরা গত ২ দশক ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই লিচু চাষ করে আসছে। সরেজমিন,লিচু বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারিরা চাষিদের কাছ থেকে অগ্রিম কিনে নেয়া বাগানে লিচু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন অনেক আগেই। বাগানে বাগানে চলছে লিচু সংগ্রহ ও বাজার জাতকরনের কাজ। ইছাখাদার অন্যতম লিচু চাষী কাজী সাইফুল ইসলাম জানান- একসময় এ এলাকার কৃষকরা ধান-পাটসহ প্রচলিত ফসল চাষে অভ্যন্ত ছিল। যা থেকে তাদের উৎপাদন খরচ উঠতোনা। যে কারণে তারা পেঁপে পেয়ারার পাশাপাশি লিচু চাষ শুরু করে। পরবর্তীতে লিচু চাষ অপেক্ষাকৃত লাভজনক হওয়ায় গোটা এলাকার কৃষকরা লিচু চাষ শুরু করে। বর্তমানে হাজরাপুর, হাজিপুর, রাঘব দাইড় এ তিন ইউনিয়নের ২৩ গ্রামের কৃষকরা শুধু লিচুর চাষ করছে। অসংখ্য লিচু চাষি আছেন যারা শুন্য থেকে শুরু করে এখন লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। এবার গোটা গ্রাম থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে বলে তারা আশা করছেন। তিনি আরো জানান, এবার দুই-তিন সপ্তাহ তীব্র গরম পড়ার কারণে বাগানের লিচু ফেটে যাচ্ছে। অনেক লিচু রং বাদামী হয়ে যাচ্ছে । তাছাড়া রমজান শুরু হওয়াতে লিচুর চাহিদা ও দাম পাওয়া যাচ্ছে না । আমি ১৫-১৬ বিঘা জমিতে লিচু চাষ করেছি। জেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষন গ্রহন করে লিচুর পরিচর্যা শুরু করি। এ বছর সার অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আমার ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন বাগানে নারী শ্রমিকসহ ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে । তাদের মুজুরি জনপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা হারে খরচ হচ্ছে। বর্তমানে আমার বাগানের লিচু পাচঁবিবি, ঢাকা বরিশাল খুলনা ফরিদপুর এলাকায় যাচ্ছে ।

তবে রমজান শুরু হওয়াতে অনেক লিচুর চাহিদা কমে যাওয়ায় আমাদের অনেক টাকার ক্ষতি হবে। অপর কৃষক কিবরিয়া কামাল জানান, তার ৩ টি বাগানে এবার ভালো ফলন হয়েছে। তবে এক ধরনের ছোট জাতের মাছি পোকা কিছু লিচুর ব্যাপক ক্ষতি করছে। এটির প্রতিরোধে কৃষকরা ভলিউম নামে এক ধরনের কিটনাশক স্প্রে করছে। যা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। সরকারিভাবে ফেরোমন ট্রাপ জাতীয় প্রকৃতিক বালাইনাশক ব্যবহারের ব্যস্থা করলে ভালো হতো। গোটা জেলায় প্রায় দেড় হাজার লিচু বাগান রয়েছে। যেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করে উল্লেখিত গ্রামগুলোর প্রায় সহস্রাধিক কৃষক পরিবার আত্মনির্ভরতার পথ খুঁজে পেয়েছে। কৃষি বিভাগ অব্যাহতভাবে নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি সব ধরণের সুবিধা এসব চাষীদের দিচ্ছে। তিনি লিচু প্রক্রিয়াজাত করার জন্য এখানে একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে পাশাপাশি এ পণ্য বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৫৮০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। তার মধ্যে সদরে ৩৮০ হেক্টর, শালিখায় ৪০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৩৫ হেক্টর ও মহম্মদপুরে ২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন জানান, আবাহওয়া অনুকুলে থাকায় এবার মাগুরা লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। লিচুর ভালো ফলনের জন্য আমরা জেলার শতাধিক লিচু চাষীকে রাজশাহী ফল গবেষণা ইনষ্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষক এনে তাদের প্রশিক্ষন ও পরামর্শ প্রদান করেছি । প্রতিটি লিচুর ফলন যাতে ভালো হয় সেজন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প কর্মকর্তারা নিয়মিত কাজ করে চলেছে। আশাকরি এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দুই-এক সপ্তাহ তীব্র তাপদাহ থাকায় অনেক বাগানের লিচু ফেটে গিয়েছে। কারণ প্রচন্ড তাপদাহ থাকলে পাকা লিচু ফেটে যায়। তাই আমরা কৃষি বিভাগ থেকে লিচু চাষীদের ভালো পরামর্শ দেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ