ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» লামা উপজেলাধীন ফাইতং ইউনিয়নের  ইটভাটা মালিকদের অবৈধ পাহাড়  কাটা  «» চমেক হাসপাতালের আগুন এখন নিয়ন্ত্রনেঃ ক্ষয়ক্ষতি লক্ষাধিক টাকা «» পলাশবাড়ীতে অজ্ঞান পার্টির ৪ সদস্য গ্রেফতার,সিএনজি ও মোবাইল উদ্ধার «» গাইবান্ধা থেকে বন্যার পানি কমছে না «» পলাশবাড়ীর হাট-বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি «» ডোমারে বর্যার কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» চট্টগ্রামের পতেঙ্গা লালদিয়া চরের উচ্ছেদকৃত মানুষের আহাজারীতে কাঁপছে আকাশ-বাতাস «» চট্টগ্রামের অক্সিজেনে চসিক’র অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান «» র‌্যাব-৮ মাদারীপুর এর অভিযানে ১২ হাজার পাঁচশত পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং ট্রাকসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক  «» চিরিরবন্দরে স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার অভিযোগ ঘাতক স্বামী আটক

এক চোখে হাসি অন্য চোখে কান্না একই এলাকার এক ভিক্ষুকের মুখে অনন্দ অন্য ভিক্ষুকের দুচোখে অশ্রুর বন্যা

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর এক ভিক্ষারী ভাতার কার্ড পেয়ে চোখে মুখে আনন্দের বন্যা অপর দিকে একজন ভাতা বঞ্চিত হয়ে দুচোখে অশ্রæশক্তি হয়ে পাথর হয়ে আছেন।

ভাতা ভুগির তালিকায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছান্দিয়াপুর (ভাটির ছড়া) গ্রামের মৃত আনছার আলীর স্ত্রী বাঁকপ্রতিবন্ধী খুকিমাই বেওয়া (৬৬)।

আর বঞ্চিত হলেন,গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া গ্রামের মৃত ছয়েছ উদ্দিনের স্ত্রী মোনা বিবি।

উভায়েরই বয়স ৬৬ বছর পেশা ভিক্ষাবৃত্তি।

জানা যায়,প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে পিত্রালয়ে বসবাস করে আসে। এর পর মোনা বিবি তিন মেয়েকে নিয়ে জীবিকার তাদিগে অন্যের বাড়িতে ঝি’র কাজ করে দিনাতিপাত করে। তার কষ্টার্জিত কিছু অর্থ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। অপর এক মেয়ে প্রতিবন্ধী এলিজাকে বিয়ে দিলেও স্বামীর সংসার বোঝতো না সে। ফলে সেও স্বামী পরিত্যাক্ত হয়।

পরবর্তীতে প্রতিবন্ধী এলিজাকে নিয়ে মোনা বিবি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে অনেক আগে কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তার পর থেকে মোনা বিবি দুমুঠো অন্নের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসে।

বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে ভিক্ষুক মোনা বিবির। অথচ এখনো তার বা প্রতিবন্ধী মেয়ের কপালে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড। বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি ভাতা কার্ড চান।

ভিক্ষুক মোনা বিবি’র প্রশ্ন আমার বয়সেই এক ভিক্ষুক যদি ভাতার কার্ড পায় আমি পায় না কেন আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা কার্ড পাব? খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা ভাতা কার্ড চাই।

মোনা বিবির বর্তমান বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামে। মোনা বিবি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন।

এদিকে মায়ের জীবন বাঁচাতে এখন প্রতিবন্ধী মেয়ে এলিজা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছেন। কষ্টে জীবন যাপন করলেও এমনি কি পায়নি ১০ টাকার রেশম কার্ড, বিধবা বা বয়স্ক ভাতা কার্ড।

বিগত বছরগুলোতে অসংখ্যবার ইউপি সদস্যদের দারস্থ হয়েছেন। কিন্ত কোনো লাভ হয়নি। ভিক্ষুক মোনা বিবি বলেন, মুই (আমি) খুব অসহায়। মোর কোনো কিছু নেই। সরকার বোলে গরিব মানুষের জন্য ১০টাকা কেজি চাউল দেয়। বিধুয়া ভাতা/বয়স্ক ভাতা দেয়। আর কত বয়স হলে মুই (আমি) ১০টাকার চাউল বা বিধুয়া/বয়স্ক ভাতা পাইম (পাব)?

এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, মোনা বিবিরি বিষয়ে আমার জানা নেই। বর্তমানে যেটুকু বরাদ্দ ছিল তা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে সমাজের দানশীল ও স্থানীয় প্রশাসানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন যদি একটা কার্ড নিজের বা মেয়ের জন্য কেহ করে দেয় তাহলে মরেও শান্তি পাব।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ