ঢাকা বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০১৯ ইং, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
basic-bank
শিরোনাম :
«» ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার্টিফিকেট জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতার দুই «» ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের পর এবার ডাকবাংলায় ২৫ টাকার ঔষুধ ৬শ টাকায় বিক্রি, জরিমানা আদায় «» ঝিনাইদহের বৈডাঙ্গায় গুজবে কান না দেওয়ার জন্য ঝিনাইদহ থানা পুলিশের উদ্যোগে গণ-সচেতনামূলক সভা অনুষ্ঠিত «» ঝিনাইদহে পুকুর ডোবায় নেই পানি, পানির অভাবে পাট জাগ দিতে মহাবিপাকে পাটচাষীরা «» ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে কসাসের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত «» ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামানের নির্দেশে ও শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রহমানের নেতৃত্বে গুজব বন্ধে শৈলকুপায় পুলিশের প্রচারাভিযান শুরু «» দিনাজপুরে পাবলিক সার্ভি দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত «» মাছের চাষে ভরপুর জেলা মোদের দিনাজপুর «» ফুলবাড়ীতে পাবলিক সার্ভিস দিবস পালনে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত «» ফুলবাড়ীতে টিউশনির অর্থে শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবই প্রদান

ভিখু চরিত্রের বর্তমান অবস্থা

লেখকঃ- মোঃ মামুনুর রশিদ.
বাংলা সাহিত্যে প্রাগৈতিহাসিক একটি ছোট গল্পের নাম। মানিক বন্দোপাধ্যায় এর একটি অনবদ্য সৃষ্টি। সাহিত্যে রসবোধ সৃষ্টিতে মানিক বন্দোপাধ্যয় এর লেখা প্রাগৈতিহাসিক গল্পটি অনেকের কাছেই ভীষণ প্রিয়। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত আধুনিক যুগের একজন মানুষের বাক্য, কর্ম, চিন্তা কতোটা আদিম, অসভ্য আর নিকৃষ্ট হতে পারে সে বিষয়টি লেখক নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- পৃথিবীর সমস্ত টাকা, খাবার আর নারী তার দখলে নেওয়া।
গল্পটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : গল্পটির কেন্দ্রিয় চরিত্র ভিখু। প্রথম দিকে ডাকাত দলের সদস্য। ডাকাতি করতে গিয়ে সব সদস্য ধরা পড়লেও একমাত্র সে-ই কাঁধে কোপ খেয়ে বেঁচেছিল। বন্ধুবর পেহলাদ গোপনে তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। একদিন পেহলাদ বাড়িতে না থাকায় তারই স্ত্রীর হাত ধরেছিল ভিখু। পেহলাদের স্ত্রী বাগদির মেয়ে বলেই ভিখু উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। পেহলাদ বাড়িতে আসলে বউয়ের মুখ থেকে ঘটনাটি শোনার পর ভিখুকে পিটুনি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ভিখু যাবার সময় ভোর রাতে পেহলাদের বাড়িতে আগুন লেগে দিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর থেকেই দেখা যায় ভিখুর একটার পর একটা আদিম, অসভ্য জীবনের প্রতিচ্ছবি। প্রথমে ভিক্ষা ব্যবসা শুরু। বাস করে এক জীর্ণ কুঠিরে। মাঝে মাঝে শহর থেকে ছেঁড়া কাঁথা কাপড় নিয়ে এসে বালিশ বানিয়ে ব্যবহার করে। ভিক্ষা করতে কেউ কম দিলে বা না দিলে গালি গালাজ করে। জিনিস পত্র কেউ ফাও না দিলে দোকানিকে মারতে যায়। নদীতে মেয়েরা গোসল করতে গেলে ভিক্ষা চাওয়ার ছলে তাকিয়ে থেকে খুশি হয়। রাতে ঘুমাতে গেলে মনে পড়ে যায় তার অতীত জীবনের ঘটনাবলি। কি এমন কু-কর্ম নাই সে করেনি? ডাকাতি , খুন, নেশা। বন্ধু রাখুকে খুন করে বউকে নিয়ে পালিয়ে আসা। এক সময় সেই বউকে রেখে পালিয়ে যাওয়া। কিন্তু এখন আর ভিখুর সে অবস্থা নেই। সামান্য একটা হাতের অসুস্থতার জন্য সে সব ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। কিন্তু নারী সঙ্গীহীন জীবন তাকে অতিষ্ট করে তুলেছে। সে চাহিদা পূরণের জন্য পাচী নামক ভিখারিনীর পিছু লেগেছিল। কিন্তু বাঁধ সাধে বছির নামক আর এক ভিক্ষুক। সে আগেই পাচীর মন জয় করেছিল। ভিখু কিছুতেই সেটা মেনে নিতে পারেনি। পাচীকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডতা হয়। শেষ পযর্ন্ত ভিখু রাতের অন্ধকারেই বছিরকে পাচীর সামনেই নির্মমভাবে হত্যা করে। ভীষণ ভয় থাকা সত্তে¡ও ভিখুর নিষ্ঠুর আচরনের কারনে পাচী তার সাথে সদর ঘাটে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হয়। প্রেক্ষিত আজকের বাংলাদেশ : ফেনি জেলার সোনাগাজি উপজেলার ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজদৌলা তারই মাদ্রাসার আলিম শিক্ষার্থী নুশরাত জাহানকে কু-প্রস্তাব দেয়। নুশরাত রাজি হয়নি। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সে মামলার জের ধরে নুশরাতকে পুড়িয়ে মারা হলো। অধ্যক্ষ সিরাজদৌলা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য হাজারো চেষ্টা করবে। কিন্তু এ কথা সবাই বোঝে বাংলাদেশে এমন কোন এইচ.এস.সি পর্যায়ে শিক্ষার্থী নেই তারই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমনি এমনি মামলা করবে। বিশেষতঃ আমরা যারা উপজেলা পর্যায়ে থাকি তারা জানি উপজেলা পর্যায়ে একটি কলেজ বা মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে আমরা কতটা সম্মান-শ্রদ্ধা করি। ভিখুর চরিত্রের সাথে অধ্যক্ষ সিরাজদৌলার অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ভিখু যেমন বন্ধুবর পেহলাদ ও রাখুর কাছ থেকে অনেক উপকার পেয়েও তাদের-ই স্ত্রীদের হরণ করেছিল, করতে চেয়েছিল। ঠিক তেমনি যে নুশরাত জাহান শিক্ষার্থীদের জন্য সিরাজদৌলার সমাজে অধ্যক্ষের পদে সম্মানিত সে নুসরাতের দিকেই কু-দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। ভিখু আর অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলার মধ্যে একটা পার্থক্য হলো- ভিখু শিক্ষা থেকে সম্পন্ন বঞ্চিত আর সিরাজদৌলা সু-শিক্ষা থেকে সম্পন্ন বঞ্চিত।
ঘটনা-২ ঃ রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি বালিশ কিনতে খরচ হয়েছে ৫৯৫৭ টাকা। প্রকৃত দাম ৯৫৭ টাকাও নয়। সব টাকা গেছে কর্মকর্তাদের পকেটে। এখানেও ভিখু চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। বিন্নু মাঝির চালটার ভিতর শুয়ে থেকে ভিখু ভাবতো ‘কত দোকানে গভীর রাতে সামনে টাকার থোক সাজাইয়া একা বসিয়া দোকানি হিসাব মেলায়’। ভিখুর আফসোস হয়। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের আফসোস করতে হয়নি। ভিখুর মতো তারা দূর্বল নয়। দোকানি হিসাব না করেই তাদের সব টাকা দিয়ে দিয়েছে। এটা তো ভিখুর বালিশ নয়। গেষ্ট রুমের বালিশ বলে কথা।
ঘটনা-৩ : চল্লিশ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া নেওয়াকে কেন্দ্রে করে দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির আর পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান এর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির কথা শুনে জাতি হতবাক। দু’জনের মধ্যে অবশ্যই কেউ একজন মিথ্যা কথা বলেছেন। একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। কিন্তু কি করে পারে প্রশাসন আর এন্টি করাপশনের এত বড় কর্মকর্তারা এত বড় মিথ্যা কথা বলতে পারে। তাও আবার জাতির সামনে। টিভিতে দু’জনের সাক্ষাৎকার শুনে মনে পড়ে গেল আবারও প্রাগৈতিহাসিক গল্পের ভিখু আর বশিরের বাগবিতন্ডতার কথা। পাচীকে নিজের কাছে রাখা নিয়ে ভিখু আর বসির একেবারে মারামারি পর্যায় গিয়েছিল। চল্লিশ লাখ টাকার ঘুষ দেওয়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির আর পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি মিজানুর রহমানের একে অপরের দোষারোপ একই পর্যায়ে গিয়েছে। পার্থক্য একটাই ভিখু আর বাছির কোন পদে ছিল না, কিন্তু এনামুল বাছির আর মিজানুর রহমান ওনারা সরকারের উচ্চ পদে আছে।
গত ২৬ শে জুন বরগুনা জেলায় আরো এক ভিখুর জন্ম হয়েছে। সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। মিন্নিকে পাচী হিসেবে ধরে নেয়া যায়। মিন্নির স্বামী রিফাতকে বসিরের চরিত্রে দেয়া যায়।

কপাল খারাপ আমাদের মত সামান্য সাহিত্য পিপাসুদের। মানিক বন্দোপাধ্যায় আজ বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে ভিখু চরিত্রের অত্যাধুনিক রুপ দিয়ে এরকম শতশত ছোট গল্প তৈরী করতে পারতেন। তাতে জাতির লাভ না হোক অন্তত বাংলা সাহিত্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারতো। সেটাই বা কম কিসে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।
ঘোষনাঃ